আর নেই চিন্তা! এবার হাইওয়েতে সর্বত্র মিলবে মোবাইল নেটওয়ার্ক, বড় পদক্ষেপ NHAI-র

Published on:

Published on:

National Highways Authority of India took a big step for passenger safety.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে হাইওয়ে (National Highways Authority of India) ও এক্সপ্রেসওয়েতে মোবাইল নেটওয়ার্কের ঘাটতি শুধু যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ নয়, বরং তা বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করছে। দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশ কিংবা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ না হওয়ায় বহু ক্ষেত্রে উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হয়। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ভারতের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই (TRAI)-এর দ্বারস্থ হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ বাড়াতে টেলিকম সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার জন্য ট্রাইকে অনুরোধ জানিয়েছে এনএইচএআই।

যাত্রী নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ NHAI (National Highways Authority of India)-র:

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সারা দেশে প্রায় ১,৭৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোট ৪২৪টি স্থানকে ‘টেলিকম ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনএইচএআই। সূত্রের খবর, এনএইচএআই চেয়ারম্যান সতীশ কুমার যাদব এই বিষয়ে ট্রাই চেয়ারম্যান অনিল কুমার লাহোটিকে চিঠি লিখে বিস্তারিত জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে হাইওয়ে পরিচালনা, ফিল্ড ইউনিট এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে, যা দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: বড় পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের! ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে হাঁটবে ‘ওরাও’

কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন নির্মিত মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েগুলিতেই এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল সিগন্যাল প্রায় নেই বললেই চলে। দিল্লি-মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরু-চেন্নাই এক্সপ্রেসওয়ের একাধিক অংশে এই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের রতলামের কাছে প্রায় ৬৯ কিলোমিটার জুড়ে তিনটি অংশে কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। একইভাবে মধ্যপ্রদেশের হরদা ও বেতুলের মধ্যবর্তী প্রায় ৫১ কিলোমিটার এলাকাও সম্পূর্ণভাবে নেটওয়ার্কের বাইরে।

এছাড়াও বেঙ্গালুরু-চেন্নাই এক্সপ্রেসওয়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার, তামিলনাড়ুর তাম্বারাম-তিরুভাল্লুর অংশের ১৭ কিলোমিটার, অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়ারাঙ্গল-খাম্মাম অংশের ১১.৮ কিলোমিটার এবং মুম্বাই-বদোদরা এক্সপ্রেসওয়ের থানে এলাকার ১০.৮ কিলোমিটার জুড়ে মোবাইল পরিষেবা কার্যত অচল। এর পাশাপাশি, এনএইচএআই জানিয়েছে যে মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে বিপথগামী পশুপাখির কারণে ১,৬৬৫টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যা যাত্রী নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

National Highways Authority of India took a big step for passenger safety.

আরও পড়ুন: মেলেনি কাঙ্খিত DA, এবার চাপ বাড়াতে ‘আল্টিমেটাম’ সরকারি কর্মীদের! ঘুরবে মোড়?

এই সমস্যা মোকাবিলায় ট্রাইয়ের সঙ্গে আলোচনায় একটি নতুন প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ ও নেটওয়ার্ক-বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছনোর প্রায় ১৫ মিনিট আগে যাত্রীদের এসএমএস বা ফ্ল্যাশ এসএমএসের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানোর সুপারিশ করেছে এনএইচএআই। কর্তৃপক্ষের মতে, এই সতর্কতা যাত্রীদের আগাম সচেতন করতে সাহায্য করবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে। এজন্য মোবাইল সংস্থাগুলিকে বিনামূল্যে এই বার্তা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য ট্রাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এনএইচএআই-এর দাবি, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।