‘৪ মাসে এরা একটা সেক্টরে পৌঁছে গেছে সেটা হল দুর্নীতি’, বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকী

Published on:

Published on:

Nawsad Siddiqui calls out Mamata Banerjee TMC for Corruption
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভাঙরের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী (Nawsad Siddiqui)। তৃণমূল থেকে শুরু করে বিজেপি (BJP) উভয়ের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন তিনি। উভয় দলের বিরুদ্ধে কখনো দুর্নীতি অভিযোগ তুলেছেন আবার কখনও তাদের ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন তিনি। আর এই দিন আইএসএফ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস (Mamata Banerjee TMC) থেকে শুরু করে নতুন রাজ্য সরকার বিজেপিকেও আক্রমণ শোনালেন একযোগে।

মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবাংলায় এখন ব্যাকফুটে আছেন : নওশাদ সিদ্দিকী

নওশাদের কথায়, ‘দেখুন সর্বপ্রথম আমাদের একটা বিষয় ক্লিয়ার করতে হবে, তৃণমূলের কাছ থেকে, তথা মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে। কতদূর পর্যন্ত এদের হাত ধরে এগোবে? এটা আগে ক্লিয়ার করা দরকার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোট তৈরি করেছিল। বেশ খানিক দূর এগিয়ে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রী কে হবে উনি আগ বাড়িয়ে একজনের নাম প্রস্তাব করলেন। কারণটা আমরা বাস্তবে দেখলাম যাতে জোটে ফাটল ধরে। ঠিক তার কিছুদিন পরেই তিনি আবার জোট থেকে বেরিয়ে চলে আসলেন। কাকে সুবিধা করার জন্য? দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’

এখানেই শেষ নয়, সরাসরি নাম নিয়েই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নওশাদের কটাক্ষ, ‘এখন মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবাংলায় ব্যাকফুটে আছেন, পিছিয়ে আছেন। সামনের দিকে আসার জন্য তিনি হয়তো কাকুতি মিনতি করছেন বা তাড়াহুড়ো করছেন কিন্তু দেখার বিষয় যে দিনের শেষে তাঁর অবস্থানটা কোথায় যায়। এটা আমাদেরকে লক্ষ্য করতে হবে।’

আরও পড়ুনঃ উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী, ভোট মিটলেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

এরপরই নিজের তথা নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে নওশাদ দাবী তুললেন, ‘আগে মমতা ব্যানার্জিকে ডিসাইড করতে হবে, তিনি প্রকৃতপক্ষে বিজেপি আর আরএসএসের কতটা বিরোধিতা করতে চাইছেন। কারণ আমরা তৃণমূলকে আমাদের রাজনীতিগত বিরোধী মনে করি কিন্তু বিজেপিকে আদর্শগত বিরোধী মনে করি। তাই আদর্শগত বিরোধী যখন মনে করছি, তাই তার লড়াই শেষ পর্যন্ত হবে।’

এরপরেই তৃণমূলের প্রসঙ্গ তুলে নওশাদ আরও বললেন, ‘সেক্ষেত্রে তৃণমূল আমাদের হাত ছেড়ে চলে যাবে, নাকি যাবে না সেটা নিয়ে একটা কনফিউশনের মধ্যে আছি। যতই তিনি মিটিং মিছিলে যান না কেন, কোনো ভালো অফার  যদি পেয়ে যান বা কোনো মধ্যস্থতা যদি হয়ে যায় বিজেপির সাথে আন্ডার দা টেবিল তাহলে দেখবেন হয়তো জোট ছেড়ে আবার বেরিয়ে যেতে পারেন।’

বিজেপির বাংলা জয় প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি জানিয়ে নওশাদ বলেছেন, ‘বিজেপি যে জিতেছে তার সংগঠনের জোরে নয়, বা তাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে নয়। তৃণমূলের অত্যাচার, অনাচার, দুর্ব্যবহারের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচানোর জন্য মানুষ প্রধান শক্তি ভেবেছিল বিজেপিকে, তাই তাকে ভোট দিয়েছে।’ এরপরেই চরম কটাক্ষ করে নওশাদ সিদ্দিকী এদিন দাবি করেছেন, ‘সাংগঠনিক দুর্বলতা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নবীনজির বক্তব্য আজকে তাহলে তো মিলে যাচ্ছে। কোন সেক্টরে এদের উপস্থিতি আছে? হ্যাঁ, এখন এই চার মাসে এরা একটা সেক্টরে পৌঁছে গিয়েছে সেটা হচ্ছে দুর্নীতির সেক্টরে। তৃণমূলকে এরা ছাপিয়ে গিয়েছে । এই চার মাসে ১৫ বছরকে এরা ছাপিয়ে গিয়েছে।’