বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের (Kazi Nazrul Islam) সমাধির পাশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে কবরস্থ করার ঘটনা। কবির পরিবারসহ নজরুলভক্তদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কবি যেখানে সারাজীবন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে গেছেন, সেখানে তাঁর চিরনিদ্রাস্থলের পাশে ভারতবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য পরিচিত এক ব্যক্তিকে সমাধি দেওয়াকে অনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন তারা। কবির নাতনি সোনালি কাজী এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে এই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।
কবি নজরুলের (Kazi Nazrul Islam) সমাধির পাশে হাদিকে কবরস্থ করা নিয়ে বিতর্ক
নজরুলের জন্মভূমি পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ার কাজী পরিবার ও বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কবির গ্রামে দেওয়ালজুড়ে সম্প্রীতির বার্তা, গবেষণাগার ও সংগ্রহশালা থাকলেও বাংলাদেশে সম্প্রতি তৈরি হিংসার বাতাবরণে তাদের যাতায়াত কমেছে। তারা ভাবতে পারছেন না, যে কবি দুই বাংলার সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক, তাঁর সমাধির পাশে কীভাবে এমন ব্যক্তিকে সমাধি দেওয়া যেতে পারে, যার চিন্তাধারা কবির আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। চুরুলিয়াবাসীদের মতে, এই বিভাজনের বাংলাদেশ নজরুল কখনো দেখতে চাননি; তাঁর ‘আমার সোনার বাংলা’ গান ছিল সম্প্রীতিরই কাব্যময় অভিব্যক্তি।
১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবিকে সমাহিত করা হয়। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর একই স্থানে ওসমান হাদিকে কবরস্থ করা হলো, যিনি তার বক্তব্যে প্রায়শই প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারি মদত ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সোনালি কাজী তাঁর বক্তব্যে ছায়ানট ভাঙচুর, রবীন্দ্রনাথের বই পোড়ানোর মতো ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনাকে যুক্ত করে বলেছেন, যারা উগ্রবাদের পথে হাঁটে, তারাই আজ কবির সমাধিস্থলকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
কবির পরিবারের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত একটি বিপজ্জনক প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র। তারা ভয় প্রকাশ করছেন, ভবিষ্যতে কবির সমাধিটিকেও হয়তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করা হতে পারে। ‘জাতের নামে বজ্জাতি’র বিরুদ্ধে সোচ্চার নজরুলের রেখে যাওয়া এভাবে অপমানিত হলে বাংলার সংস্কৃতির মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়বে। পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:বাংলাদেশে চরম অরাজকতা! হাদির পর আবার এক নেতাকে লক্ষ্য করে চলল গুলি
এ ঘটনায় দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও নজরুল চেতনার উপর গুরুতর আঘাত পড়েছে বলেই মনে করছেন নজরুল গবেষক ও সুশীল সমাজ। কবির দর্শন ছিল সম্প্রীতি, বিদ্রোহ ও মানবতার, যা কোনও প্রকার ঘৃণা বা সংকীর্ণতার স্থান দেয় না। তাই তাঁর চিরনিদ্রাস্থলে এমন ব্যক্তির সমাধি দেওয়াকে অনেকেই কবির প্রতি চরম অবিচার ও ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করছেন।












