ভারতীয় পতাকায় সই চেয়েছিলেন বিদেশি ভক্ত! শ্রদ্ধাশীল নীরজের উত্তর শুনলে চোখে জল আসবে আপনার

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ অলিম্পিকে পদকজয়ী তিনি আগেই ছিলেন। এখন তিনি পরিণত হয়েছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নে। এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ফর্মে থাকা ক্রীড়াবিদ করছেন নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। জ্যাভলীন হাতে হিংস্র শ্বাপদের মতো যখন তিনি ছুটে যান তখন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আছে গোটা ভারতবর্ষের ক্রীড়াপ্রেমীদের। এরপর প্রত্যাশা মতো নিক্ষেপ সম্পূর্ণ করে যখন তিনি বাঘের মতো গর্জন করে ওঠেন তখন শিহরণ জেগে ওঠে দেশবাসীর মনে।

   

গতকাল রাতে তিনি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পাকিস্তানের আর্শাদ নাদিমকে পিছনে ফেলে ৮৮.১৭ মিটার দূরত্বে জ্যাভেলীন নিক্ষেপ করে জিতে নিয়েছেন বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণপদক। প্যারিস অলিম্পিকের যোগ্যতা তিনি আগেই অর্জন করে ফেলেছিলেন। আগামী বছর খেলাধুলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের এই ছন্দ বজায় রাখবেন নীরজ এমনটাই প্রত্যাশা ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের।

যারা জানেন না তাদের জন্য উল্লেখ করা হচ্ছে যে নীরজ হচ্ছেন দেশের মাত্র দ্বিতীয় এমন ক্রীড়াবিদ যিনি ব্যক্তিগত ইভেন্ট অলিম্পিক থেকে ভারতকে সোনা এনে দিতে পেরেছেন। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সে এই ক্রীড়াবিদ জন্মেছিলেন হরিয়ানার পানিপথের খান্দ্রা নামক গ্রামে। মূলত কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল পরিবারে জন্ম হয়েছিল তার। দেশের মুখ উজ্জ্বল করাটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় কর্তব্য বলে মনে করেন নীরজ। অত্যন্ত অল্প বয়সে তিনি যা সাফল্য অর্জন করেছে তার জন্য তিনি শুধুমাত্র দেশের মাটিতেই নয়, বিদেশের মাটিতেও ভক্ত সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এর প্রমাণ মিললো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জয়ের পর।

আরও পড়ুন: কলকাতায় কোহলি, পুনেতে নেইমার! দেখবেন কাকে? জানুন কবে একসাথে ভারত কাঁপাবেন দুই তারকা

স্বর্ণপদক জয়ের পর এক হাঙ্গেরিয়ান মহিলা নীরজের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বুদাপেস্টেই। তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি এই ভারতীয় ক্রীড়াবিদের অত্যন্ত বড় ভক্ত হয়ে উঠেছেন। আর শুধু তাই নয়, ওই হাঙ্গেরিয়ান মহিলা যথেষ্ট ভালো হিন্দি ভাষাও বলতে পারেন। নিজের সঙ্গে দেখা করতে এসে তাই তিনি হিন্দিতেই কথাবার্তা বলেছেন।

আরও পড়ুন: চমক লাগানো শিক্ষাগত যোগ্যতা নীরজ চোপড়ার! জানুন কতদূর পড়াশুনা করেছেন ভারতের সোনার ছেলে

no flag ag

নিজেকে একজন বড় ভক্ত হিসেবে দাবি করার পর নীরজের সামনে একটি ভারতীয় পতাকা রেখে অটোগ্রাফ চান ওই হাঙ্গেরিয়ান মহিলা। নীরাজ রাজি হয়েছিলেন কিন্তু যখনই দেখেন যে মহিলাটি পতাকায় সই চাইছেন তখন তিনি পিছিয়ে যান এবং বলেন, ‘এই জায়গায় সই করা সম্ভব নয় এবং অনুচিত’। জাতীয় পতাকার প্রতি নীরজের আবেগ উপলব্ধি করতে পারেন ওই মহিলা। তাই শেষপর্যন্ত নিজের টি-শার্টের হাতায় অটোগ্রাফ নিয়ে নেন তিনি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন নীরজও।