বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালের (Nepal) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই গোষ্ঠীগত সংঘাতের নতুন আগুনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-সীমান্তবর্তী পারসা ও ধানুসা ধাম জেলা। একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি তীব্র উত্তেজনা সহিংস বিক্ষোভ ও সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ভিডিওটিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোষের জন্ম দিয়েছে।
ফের অশান্তির আগুনে জ্বলছে নেপাল (Nepal)
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ধানুসা ধাম ও পারসা জেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং পারসা জেলার সাকুয়া মারান এলাকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যেখানে একদল বিক্ষোভকারী একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এই ঘটনা পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় এবং গোষ্ঠীগত উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
আরও পড়ুন: OnePlus-Redmi-Oppo! জানুয়ারিতে বাজারে ঝড় তুলতে আসছে একের পর এক দুর্ধর্ষ স্মার্টফোন
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। বীরগঞ্জ এলাকায় পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং একটি থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এই সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসন দাবি করেছে, সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পারসা জেলা প্রশাসন বীরগঞ্জ শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে এবং সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নেপাল-ভারত সীমান্তের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং উত্তেজনা না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫,৬০০ টাকায় শুরু ব্যবসা, আজ গড়েছেন ৪২০ কোটির সংস্থা, Shark Tank India-র বিচারক হলেন কণিকা
এই সহিংসতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিহারের রক্সৌল সংলগ্ন ভারত-নেপাল সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র সীমা বল। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের যাতায়াত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল ও নজরদারি কঠোর করা হয়েছে। দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি আরও ছড়িয়ে পড়া রোধে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে তদারকি চালাচ্ছে।












