আমেরিকার হাতে বন্দি হয়ে মুখ খুললেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট! কী জানালেন তিনি?

Published on:

Published on:

Nicolas Maduro spoke out after being taken prisoner by the Americans.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro) ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে আটকের ঘটনায় উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক অপারেশনে স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে তাঁদের গ্রেফতার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সূত্রগুলি দাবি করেছে। মাদুরোকে সরাসরি নিউ ইয়র্কের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (ডিইএ) অফিসে হাজির করা হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁকে মার্কিন নিরাপত্তা রক্ষীদের ঘিরে শান্তভাবে হাঁটতে দেখা গেছে।

মার্কিন সেনার হাতে আটক হওয়ার পর প্রথম মুখ খুললেন মাদুরো (Nicolas Maduro):

ভিডিওতে দেখা যায়, ডিইএ অফিসে প্রবেশের সময় মাদুরো উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ‘গুড নাইট, হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলেন, যা তাঁর গ্রেফতারের পর প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমর্থক ও বিরোধী উভয় শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন! ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে কী নির্দেশ দিল কেন্দ্র?

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মাদক চক্রান্দোলন বিরোধী লড়াইয়ের একটি অপরিহার্য অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের প্রশংসা করে একে ‘টিভি শো’য়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, “গতকাল আমেরিকা যা করেছে, বিশ্বের আর কোনো দেশ তা পারেনি। এটি ছিল একটি সাহসী ও নজিরবিহীন অভিযান।” হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অংশ।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-টেররিজম’ ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির চক্রান্ত, অবৈধ অস্ত্র দখল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাগুলির বিচার মার্কিন আইন অনুযায়ী হবে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

Nicholas Maduro spoke out after being taken prisoner by the Americans.
ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো

আরও পড়ুন:রবিতে বড় সুখবর! অনেকটা সস্তা হয়ে গেল সোনা, কমল ২২ ও ২৪ ক্যারাটের দর

যদিও বিচার প্রক্রিয়া কোথায় চলবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়; নিউ ইয়র্ক বা ফ্লোরিডার আদালতে শুনানি হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আপাতত মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে রাখা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর ব্যাপক বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক প্রভাব পড়বে।