বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি অভূতপূর্ব ও বিতর্কিত দাবি করেছেন, নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ বলে ঘোষণা করার মাধ্যমে। তিনি তার ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তার বায়োডাটায় আমেরিকার ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ভেনেজুয়েলার অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করেন। এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে এবং একে আন্তর্জাতিক আইন ও একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প (Donald Trump)!
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ। কিছুদিন আগে একটি গোপন মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ডেলসি রড্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখনই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভেনেজুয়েলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করবে এবং এর অর্থ মার্কিন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
আরও পড়ুন:MBBS-এর পর UPSC-র প্রস্তুতি! ৩৫ র্যাঙ্ক করেও হননি IAS, চমকে দেবে শ্রেয়াকের কাহিনি
এবারের এই ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ এবং দেশটির বিশাল তেল ভাণ্ডারের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি স্পষ্ট ইশতেহার হিসেবে দেখছেন। এটি দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের একটি আগ্রাসী পদক্ষেপ বলে ধরা পড়ছে। এ ঘটনায় শুধু ভেনেজুয়েলাই নয়, পুরো লাতিন আমেরিকা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি কিউবাকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু ভেনেজুয়েলা কিউবাকে আর তেল সরবরাহ করতে পারবে না, তাই কিউবার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। এমনকি মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিওকে কিউবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে তিনি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছেন।

আরও পড়ুন: বদলে গেল পূর্বাভাস! মঙ্গল থেকেই দক্ষিণবঙ্গে জমে যাবে আবহাওয়ার নয়া ‘খেলা’…জারি আগাম সতর্কতা
অর্থাৎ, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ও সাম্প্রতিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একদিকে যেমন একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের নজির তৈরি করেছে, অন্যদিকে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।












