বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) মিলল ‘গুপ্তধন’! রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড তথা OIL (Oil India Limited) কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের (Natural Gas) সন্ধান পেয়েছে। এই আবিষ্কারটি একটি অগভীর সমুদ্র ব্লকে ঘটেছে। সংস্থাটি সম্প্রতি ডিসকভার্ড স্মল ফিল্ড (DSF) বিডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ব্লকটি অধিগ্রহণ করেছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হল এই আবিষ্কারটি কোথায় করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেতে পারে? বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল। রিপোর্ট অনুসারে, সংস্থাটি কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকার মৎস্যপুরী ফরমেশনে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। এই আবিষ্কারটি কেজি-ডিএসএফ/জিএসকেডব্লিউ/২০২৮ ব্লকের গোদাবরী-১ কূপে করা হয়েছে।
ভারতে (India) প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন ভাণ্ডার খুঁজে পেল অয়েল ইন্ডিয়া:
কীভাবে লাভবান হবে ভারত: জানিয়ে রাখি যে, অনুমান করা হচ্ছে, এই আবিষ্কারের ফলে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ, ভারত তার গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশ অন্যান্য দেশ থেকে কিনে থাকে। রিপোর্ট অনুসারে, ভারত তার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৮ শতাংশ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে। এই আবিষ্কারটি অন্যান্য দেশের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও সাহায্য করতে পারে। একইসঙ্গে, অভ্যন্তরীণ গ্যাসের, বিশেষ করে CNG, PNG এবং সার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে তারা বিশেষ সুবিধা পেতে পারে।

কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া গেছে: উল্লেখ্য যে, আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল,বএটি এমন একটি স্থান যেখানে আগে কখনও অনুসন্ধান চালানো হয়নি। তবে, অনুসন্ধান চালানোর পর প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি নতুন ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়। সংস্থাটি ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২,০২৭ মিটার গভীরতায় কূপটিতে গ্যাস পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এই সময়কালে প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১ লক্ষ SCMD গ্যাস পাওয়া যেত।
আরও পড়ুন: আদানি গ্রুপের এই সংস্থায় ১৩৪ শতাংশের মুনাফা! তবুও, পতন শেয়ারে
সংস্থাটি এবার ওই এলাকার উপরিভাগে গ্যাসের সার্ভে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ধারাবাহিক সার্ভে চলাকালীন গ্যাসের ঘনত্ব ১,০০,০০০ SCMD থেকে বেড়ে ২,০০,০০০ SCMD হয়েছে। সংস্থাটি দৈনিক প্রায় ১৭০ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ফাঁস গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য! ১,৪২৫ কোটির ইন্স্যুরেন্স ক্লেম করার প্রস্তুতি SBI-র
প্রাকৃতিক গ্যাস কোথায় কোথায় ব্যবহৃত হয়: জানিয়ে রাখি যে,বিসভারতে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত সার উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শোধনাগার শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, এটি শহরে CNG হিসাবে এবং বাড়িতে রান্নার কাজে PNG হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।














