ঘুষ না দিতে পারায় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন কোহলি, চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁস করলেন ভারত অধিনায়ক

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এই মুহূর্তে মারাত্মক যুদ্ধ চলছে ভারত এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে। চতুর্থ টেস্ট এখন এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যেখান থেকে ড্র বা জয় যে কোন কিছুই হতে পারে। ভারতীয় দলে এই মুহূর্তে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় যে বিরাট কোহলি এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। শুধু ভারত অধিনায়ক হিসেবে নয়, ব্যাটসম্যান হিসেবেও তার রেকর্ড বিশ্ব ক্রিকেটে হাতে গোনা। যদিও এই মুহূর্তে কিছুটা অফ ফর্মে ভুগছেন বিরাট। কিন্তু ইতিমধ্যেই তিনি পূর্ণ করে ফেলেছেন ২৩০০০ আন্তর্জাতিক রান এবং শচীন পন্টিংদের থেকেও দ্রুতগতিতে এই ল্যান্ডমার্কে পৌঁছেছেন তিনি।

ভাবতেও কি পারা যায় এই ক্রিকেটারকেও এক সময় দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল ঘুষ না দিতে পারার কারণে? দীনেশ কার্তিককে দেওয়া স্কাই স্পোর্টসের এক ইন্টারভিউতে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে অনলাইন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। প্রাক্তন খেলোয়াড় দীনেশ কার্তিক বিরাটকে প্রশ্ন করেছিলেন, “তুমি কি শুরু থেকেই এতটাই আত্মবিশ্বাসী, নাকি যত খেলতে শুরু করেছ তত ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছ?”

উত্তরে বিরাট তার ছোটবেলার কথা টেনে আনেন, তিনি বলেন, রাজ কুমার শর্মা নামক যে কোচের সঙ্গে তিনি তখন প্র্যাকটিস করতেন, তাকে তিনি আজও মনে রেখেছেন। এখনো তার কাছে ফোন করে পরামর্শ নেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ২০১৪ সালে তার ব্যাটিংয়ে শচীনের সাহায্যের কথাও টেনে আনেন বিরাট। ছোটবেলা ও বাবার কথা শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার এই জার্নির সবচেয়ে ভালো বিষয়টি হলো, আমি এমন একটি অ্যাকাডেমির ছাত্র ছিলাম যা নিয়ে কেউ তেমন কথা বলত না। সুতরাং আমার জন্য একটা রাস্তা ছিল উপরে উঠে আসার, কেউ যদি শতরান করে তাহলে আমায় দ্বিশতরান করতে হবে, নাহলে কেউ আমার দিকে নজর দেবে না। আর আমার মধ্যে সেই আগুনটা সর্বদা ছিল।”

এই প্রসঙ্গেই তিনি আরও বলেন, “এই সমস্তটাই এসেছে আমার বাবা আমার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তার থেকে। আমার জীবনে এমন একটা সময় ছিল যখন আমি দিল্লির অনূর্ধ্ব ১৪ দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু দুপুর ১ টা নাগাদ কোন কারনে আমাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। আপনি তো জানেন রাজ্যস্তরে কি ধরনের ঘটনা ঘটে! আমার বদলে অন্য একজনকে আমার জায়গায় দলে নেওয়া হয়, কারন এরমধ্যে কিছু অনুদানের ব্যাপার ছিল। আমার বাবাকেও একই অফার দেওয়া হয়, বলা হয় আপনি যদি পারেন তাহলে দু ম্যাচ পর থেকে আপনার ছেলেকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আমার বাবা দৃঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ জানান এবং বলেন আমার ছেলেকে খেলানোর জন্য আমি এক পয়সাও দেব না।” বিরাট বলেন এটাই তার জীবনের বড় অনুপ্রেরণা।

 

সম্পর্কিত খবর

X