বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজস্থানের (Rajasthan) বিকানিরে উত্তেজনা ছড়াল। ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামের কৃষিজমিতে রহস্যজনক পাকিস্তানি বেলুন পাওয়া যাওয়ার পরে নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অপারেশন সিঁদুরের পর দুই দেশের মধ্যে যে সঙ্ঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখে গ্রামের প্রধান বেলুনটি দেখেই দ্রুত খবর দেন পুলিশ এবং বিএসএফকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিএসএফের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে।
রাজস্থানে (Rajasthan) পাকিস্তানের পতাকা লাগানো বেলুন উদ্ধার:
ঘণ্টাখানেক ধরে রাজস্থানের (Rajasthan) বিকানিরের বিস্তৃত অঞ্চলে তল্লাশি চালানো হয় আশপাশের কৃষিজমি জুড়ে। বেলুনটিকে ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করেন বিএসএফ আধিকারিকরা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বেলুনে কোনও বিস্ফোরক, সেন্সর ডিভাইস, ক্যামেরা, ট্রান্সমিটার বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তা জোরদার করতে কোনও ঢিলেমি রাখতে রাজি নয় বাহিনী। এই কারণেই বেলুনটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য বার্তা নিয়ে গোয়েন্দারা আলাদা ভাবে তদন্ত শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘ভারত-পাকিস্তান সংঘাত রোধ করেছি’, FIFA-র শান্তি পুরস্কার পেয়েই নিজের দাবিতে অনড় ট্রাম্প
অফিসারদের ধারণা, ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে পাকিস্তানের দিক থেকে এই বেলুনটি ভারতের রাজস্থানে (Rajasthan) ভেসে আসতে পারে। সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতি এবং সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেও সেই অনুমানকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র বাতাসের উপর নির্ভর করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ গোয়েন্দা বিভাগ। কারণ এর আগেও বহুবার পাকিস্তানের দিক থেকে সীমান্ত বরাবর অনুপ্রবেশমূলক কাজের প্রমাণ মিলেছে।
গত কয়েক বছরে বিএসএফের নজরে এসেছে, রাজস্থানের (Rajasthan) খাজুওয়ালা, অনুপগড় এবং রাইসিংনগর সেক্টর দিয়ে পাকিস্তানের মাদক চক্র ড্রোনের মাধ্যমে হেরোইন, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং নজরদারি সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। একাধিকবার পাকিস্তানি নজরদারি ড্রোন ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে। ফলে এই ধরনের অচেনা বস্তুর উপস্থিতিকে কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে।

আরও পড়ুন:শূন্যপদে বড়সড় নিয়োগ! CBSE-তে চাকরির সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য
রাজস্থানের (Rajasthan) এই ঘটনার পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, শক্তিশালী করা হয়েছে নাইট পেট্রোলিং। গ্রামবাসীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কোনও সন্দেহজনক বস্তু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ বা বিএসএফকে জানানোর জন্য। তদন্তের পর বেলুন নিয়ে আসল সত্যতা কী, তা জানা যাবে। তবে ভারত-পাক উত্তেজনার আবহে এই পাকিস্তানি বেলুন সীমান্তে নতুন রহস্য তৈরি করেছে বলেই মনে করছে নিরাপত্তা মহল।












