বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেমেছে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলি। নতুন বছর শুরু হতেই রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রচারের লড়াই। গত ২ তারিখ থেকে রাজ্যের একাধিক জায়গায় র্যাম্প মঞ্চ করে ভোট প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহাওয়া এবার বাংলায় আসছেন রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির প্রধান নেতৃত্ব তথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)
জানুয়ারিতেই বাংলায় জোড়া সভা মোদির (Narendra Modi)
সুখের খবর জানুয়ারি মাসেই বাংলায় জোড়া জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। আগামী ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি, পর পর দু’দিন প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ জানুয়ারি মালদহ জেলায় জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরের দিন, অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় সভার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুরুতে ঠিক ছিল, ১৮ জানুয়ারির সভাটি হবে হাওড়ায়। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, হাওড়ার বদলে হুগলি জেলার সিঙ্গুরেই প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) জনসভা করার জন্য বেশি জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটকে সামনে রেখেই রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নকে বড় ইস্যু করে তুলেছে বিজেপি। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের চাকরির অবস্থা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ঘাটতি নিয়ে বারবার সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন সংসদেও রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপি সাংসদরা।
এর পাশাপাশি, সম্প্রতি রাজ্যের শিল্পায়নের খতিয়ান তুলে ধরে শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবিএস আয়োজনেই এখনও পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। উপহার, ভাষণ, খাওয়া-দাওয়াতেই এই টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অথচ বিনিয়োগের দিক থেকে এই রাজ্যে ফলাফল শূন্য। বিজিবিএস আজ একটা ফ্লপ শো।’

আরও পড়ুনঃ SIR শুনানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, দায়ের মামলা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতিকে বড় ইস্যু হিসাবে তুলে ধরতেই চাইছে বিজেপি। সেই দিক থেকে দেখলে, সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সভা হলে তার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকটাই বাড়বে। কারণ, সিঙ্গুর আন্দোলন এক সময় বাংলার রাজনীতির সমীকরণই বদলে দিয়েছিল। এবার সেই পুরনো স্মৃতি এবং আবেগকে সামনে এনে নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। টাটাকে ফেরানোর ‘স্বপ্ন’ দেখিয়ে শিল্প ও কর্মসংস্থান প্রশ্নে শাসকদলকে চাপে রাখাই যে এই কৌশলের মূল লক্ষ্য, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












