বাংলা হান্ট ডেস্ক : রেলে চাকরির সুযোগ। রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট সেল মোট ৪৬৫১টি পদে নিয়োগ (Railway Recruitment) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। কোনও লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে না, এমনকি দিতে হবে না ইন্টারভিউও। সরাসরি শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে চলেছে নর্দার্ন রেলওয়ে। দেশের বিভিন্ন ডিভিশন ও ওয়ার্কশপে এই নিয়োগ হবে।
রেলের নিয়োগ (Railway Recruitment) বিজ্ঞপ্তিতে কী জানা যাচ্ছে?
রেলের প্রকাশিত শূন্যপদের তালিকা অনুযায়ী, লখনউ ক্লাস্টারে ১,৫২৫ জনকে নেওয়া হবে। দিল্লিতে রয়েছে ১,৩১২টি পদ। এ ছাড়া আম্বালা বিভাগে ৯৭৯ জন এবং ফিরোজপুরে ৭৪০ জন শিক্ষানবিশ নিয়োগ করা হবে। তুলনায় মোরাদাবাদ ও জম্মুতে পদের সংখ্যা কম। সেখানে যথাক্রমে ৬৩টি এবং ৩২টি শূন্যপদ রয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়টি ক্লাস্টারে মোট ৪,৬৫১টি অ্যাপ্রেন্টিস পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে ১১ নভেম্বর থেকে। ইচ্ছুক প্রার্থীদের ১১ ডিসেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। ওই দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হবে। আবেদন করতে হবে রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট সেলের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট https://rrcnr.org/-এ। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে দুটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথমত, কোনও স্বীকৃত বোর্ডের অধীনে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট কাজের ট্রেডে NCVT অথবা SCVT অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে ITI পাশের শংসাপত্র থাকতে হবে।
আরও পড়ুন :কালীপুজোয় দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ভ্রুকুটি, আজ কেমন থাকবে তিলোত্তমার আবহাওয়া?
এখানে ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়েও বিশেষ শর্ত রয়েছে। মাধ্যমিক এবং আইটিআই, দু’টি পরীক্ষার ফলই ৬ নভেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশিত হতে হবে। অর্থাৎ, যাঁরা এখনও ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁরা এই নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বয়সের হিসাব করা হবে ১১ ডিসেম্বর, ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর হতে হবে। সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৪ বছর। তবে সরকারি নিয়ম মেনে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীরা বয়সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ছাড় পাবেন।
আবেদনমূল্যও শ্রেণিভেদে আলাদা রাখা হয়েছে। সাধারণ, ওবিসি এবং EWS বিভাগের প্রার্থীদের ১০০ টাকা জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, SC, ST, PWD এবং মহিলা আবেদনকারীদের কোনও ফি দিতে হবে না। ফলে এই বিভাগগুলির প্রার্থীরা বিনামূল্যেই আবেদন করতে পারবেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের জন্য কোনও লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হচ্ছে না। দশম শ্রেণি এবং আইটিআই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই তৈরি হবে মেধা তালিকা। দুটি পরীক্ষার ফলাফলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। সেই অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তবে মেধা তালিকায় নাম উঠলেই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে যাবে না। পরবর্তী ধাপে নির্বাচিতদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র খতিয়ে দেখা হবে। এর পর তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নথি যাচাই এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোবে। রেলের এই চাকরির ইন্টারভিউতে লিখিত পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষাগত ফলাফলের ভিত্তিতে বাছাই হওয়ার বিষয়টি এই বিজ্ঞপ্তির অন্যতম আকর্ষণ।












