ক্ষণে ক্ষণে অজ্ঞান! ‘ঠাকুর আমার কোনও দোষ নিও না’, কেবিনে একা বসে কাতর প্রার্থনা জ্যোতিপ্ৰিয়র

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কিছুটা সুস্থ রয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। তবে মাথার ওপর থেকে সঙ্কট কাটলেও সম্পূর্ণরূপে বিপন্মুক্ত নন রেশন দুর্নীতিতে (Ration Scam) ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)। বেশ কিছুদিন হল এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন জ্যোতিপ্ৰিয়। আইসিইউ থেকে বের করা হয়েছে তাকে। বর্তমানে কার্ডিওলজির বারো নম্বর কেবিনে রয়েছেন মন্ত্রীমশাই।

   

হাসপাতাল সূত্রে খবর, মাঝেমধ্যেই জ্ঞান হারাচ্ছেন জ্যোতিপ্ৰিয়। সর্বক্ষণ চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন। তবে মন্ত্রী নাকি একা একাই কথা বলছেন। সূত্রের খবর, এসএসকেএমে জ্যোতিপ্ৰিয়র কেবিন থেকে হঠাৎ হঠাৎ শোনা যাচ্ছে, ‘ঠাকুর আমায় রক্ষা করো। আমায় ভালো করো। আমার কোনও দোষ নিও না ঠাকুর। ‘

জানা যাচ্ছে আইসিসিউই থেকে বেরোনোর পর একা একাই থাকছেন জ্যোতিপ্ৰিয়। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। নিজের সঙ্গেই নিজে কথা বলছেন। তবে বারংবার জ্ঞান হারানো চিন্তা বাড়াচ্ছে মন্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল বোর্ডের।

ডায়াবেটিসের রোগী জ্যোতিপ্ৰিয়। অত্যাধিক সুগারের জন্য তাকে নিয়মিত ইনসুলিন ও আরও তিনরকমের ওষুধ দেওয়া হয়। খান কিডনি ও স্নায়ুর সমস্যার ওষুধও। চিকিৎসকদের ধারণা রক্তে দ্রুত শর্করার হার কমে যাওয়ায় জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। যদিও তার তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসকেরা তৎক্ষণাৎ মন্ত্রীর জ্ঞান ফেরানোরও চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: পিছিয়ে থেকেও সবার সেরা মামা! এই পাঁচ কারণেই লাগাতার চতুর্থবার মধ্যপ্রদেশে গেরুয়া সুনামি

ওদিকে আদালতের নির্দেশে গতকালই বনমন্ত্রীর রুমের ভেতর লাগানো হয় বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন দু দুটি ‘সেন্সর’ সিসি ক্যামেরা। যার দ্বারা অডিও, ভিডিও দুয়েই চলবে নজরদারি। জেল ও হাসপাতাল সূত্রে আরও খবর, ক্যামেরার পাশাপাশি জ্যোতিপ্রিয়র রুমের বাইরে গেটের সামনে এবার থেকে রাখা থাকবে রেজিস্টার খাতা। মন্ত্রীমশাইয়ের রুমে কখন কোন ডাক্তার, নার্স ঢুকছেন সমস্ত কিছু লিখে ঢুকতে হবে। সিসি ক্যামেরা ফিড লিংক থাকবে ইডির কাছে।

jyotipriya ed 7

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার আদালতে ইডি জানায় তারা জ্যোতিপ্ৰিয়র কোনও খোঁজ পাচ্ছে না। ইডির দাবি, উনি প্রভাবশালী মন্ত্রী। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ধৃত বনমন্ত্রী নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতোই ‘প্রভাবশালী’। জেলে ও হাসপাতালে থাকা অবস্থায় যেকোনো সময় প্রমাণ লোপাট হয়ে যেতে পারে। এই জানিয়েই জ্যোতিপ্ৰিয়কে নজরদারিতে রাখার আবেদন জানায় ইডি। এরপরই হাসপাতালে জ্যোতিপ্ৰিয়কে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেয় কলকাতার বিচার ভবন।