বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC-এর অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তল্লাশি শুরু হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি উপস্থিতি এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সকাল থেকে বহু পুরনো কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তের প্রেক্ষিতে কলকাতার সল্টলেকের আই প্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। সূত্রের খবর, তল্লাশির খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন। অভিযোগ ওঠে, সেখান থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি ও হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে যান। ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং তাঁর ভূমিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
কী বলেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)?
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’। শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাংবিধানিক পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সরিয়ে নিয়েছেন, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে ইডির তরফেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ইডির দেওয়া ব্যাখ্যা ও বিবৃতি নিয়েও বিজেপি আরও কড়া সুরে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অন্দরে স্পষ্ট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শাসক দল বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে এবং জনসমক্ষে ইতিমধ্যেই প্রকাশিত তথ্যকেও অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। বিজেপির তরফে আরও বলা হয়, ‘টিএমসি আতঙ্কিত হওয়া বন্ধ করুক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সান্ত্বনা দেওয়া দরকার। তিনি স্পষ্টতই বিচলিত এবং মানসিক চাপে রয়েছেন।’

আরও পড়ুনঃ রাজ্যপালকে খুনের হুমকি! ‘Will Blast Him’ মেইলে রাজভবনে আতঙ্ক! খবর গেল অমিত শাহর কাছে
বিজেপির দাবি, ইডির ব্যাখ্যা ও বিবৃতি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, তারা শুরু থেকেই তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আইন ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে রয়েছে। এই ঘটনা এবং শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












