মহিলা আন্দোলনে জ্বলছে সন্দেশখালি! কার নির্দেশে এত কিছু? এবার ‘ম্যাডাম’এর নাম বললেন ‘সেই’ গীতা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত প্রায় দুমাস থেকে জ্বলছে সন্দেশখালি (Sandeshkhali)। স্থানীয় মহিলাদের বিক্ষোভ, প্রতিনিয়ত আন্দোলনে লাগাতার বাড়ছে উত্তাপ। কখনও তৃণমূল নেতার পেছনে লাঠি হাতে তাড়া তো কখনও জ্বালানো হচ্ছে শাসকদলের ‘অভিযুক্ত’ নেতাদের আলা ঘর। আর এই সকল ক্ষেত্রেই অধিক মাত্রায় রয়েছেন সন্দেশখালির মহিলারা। এদের মধ্যেই প্রথম সারিতে দেখা যায় গীতা বরকে। কখনও মুখ খোলা, কখনও আবার গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা। তবে কে এই মহিলা? তার পরিচয় নিয়ে এবার শোরগোল।

   

সূত্রের সন্দেশখালি দু’নম্বর ব্লকের বেড়মজুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঠপোল এলাকায় লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন গীতা বর। শেখ শাহজাহান ও তার সঙ্গীদের শাস্তির দাবিতে সন্দেশখালির মহিলা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গীতা। ওই পঞ্চায়েতে এলাকায় মহিলাদের জমায়েত করা করে, আলা ঘরে আগুন ধরানো, রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালানো, পুলিশের গাড়ি আটকাতে রাস্তার উপরে কাটা গাছ বিছিয়ে দেওয়া – এই সব কিছুর পিছনে মূল মাথা এই গীতাই।

সন্দেশখালির আন্দোলনরত মহিলাদের কাছে গীতা এখন আত্মজন। দুদিন আগেই বেড়মজুরের ১,২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুপখালিতে সংগঠিত হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সবটাই হয়েছিল গীতা বরের নেতৃত্বে। শুধু সেখানেই নয়, বেড়মজুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছারিপাড়া, বটতলা, দাসপাড়া, কাঠপোল একাধিক জায়গায় গীতাকে ফ্রন্টে থেকে আন্দোলন করতে দেখা গিয়েছে। কখনও মুখ বাঁধা, কখনও মুখ খোলা।

তবে ফোনে ‘ম্যাডামের’ নির্দেশ পেলে তবেই গীতা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন প্রাণ ভয় ভুলে। কিন্তু কে সেই ম্যাডাম? গীতা বর বলেন, “ম্যাডামের (বিজেপি নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র) সঙ্গে আমরা আছি। এই আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট চলেছে। আমাকে মারধর করা হয়েছে। বাড়িতে আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন স্বামীকে মারধর করা হয়েছে। ছোট বাচ্চাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। ”

গীতার সাফ কথা, তাদের লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে নয়, এলাকার গুন্ডাদের বিরুদ্ধে। তাদের এলাকাছাড়া করার শপথ নিয়েছেন গীতা। তার কথায়, “শেখ শাহাজানের ভাই সিরাজ যেভাবে আমাদের জমি কেড়ে নিয়েছে, প্রতিনিয়ত গ্রামের মহিলাদের অসম্মান করছে, তাতে আমাদের কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। আন্দোলনে নেমেছি বলেও আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে। ”

sandeshkhali

আরও পড়ুন: ফিল্মি কায়দায় শ্যুটআউট! ঘরে ঢুকে পর পর গুলি, গুমায় খুন গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান

গীতার বাড়ির কিছুটা দূরেই পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র করেছে। কিন্তু সেখানে অভিযোগ জানাননি গীতা। কেন? এ বিষয়ে গীতা বলেন, “পুলিশকে জানিয়ে কী হবে! পুলিশ তো কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। কিন্তু এতে কী হবে? সিসিটিভি লাগিয়েছে, এদের কোনও লাভ হবে না পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না। কিচ্ছু করবে ণা পুলিশ। এখন নিজেদেরটা বুঝে নেওয়ার লড়াই শুরু হয়ে গেছে।”

Sharmi Dhar
Sharmi Dhar

শর্মি ধর, বাংলা হান্ট এর রাজনৈতিক কনটেন্ট রাইটার। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ।

সম্পর্কিত খবর