টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

উনি এমন করলে আমরা কী শিখব! অঙ্কিতাকে নিয়ে বিস্ফোরক স্কুলের পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রাপ্য নম্বর ছিলো অনেক কম, দিতে হয়নি কোনরকম ইন্টারভিউ! তা সত্ত্বেও চাকরিতে নিযুক্ত হয় অঙ্কিতা অধিকারী। অভিযোগ, বাবা পরেশ অধিকারী বাংলার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়েই শিক্ষিকার পদে বহাল থাকে অঙ্কিতা। তবে কথায় আছে, ‘সব পাপেরই শেষ থাকে।’ আর গতকাল বাস্তবেও সেটাই ঘটতে দেখা গিয়েছে।

যে চাকরিপ্রার্থীকে লিস্ট থেকে সরিয়ে সুযোগ পায় মন্ত্রীকন্যা, সেই ববিতা সরকার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। এর পরেই হাইকোর্টে এই মামলাটি ওঠে এবং গতকাল শুনানিতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অঙ্কিতাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। আদালতের এই রায়ের পর এবার একে একে সকলেই মুখ খুলতে আরম্ভ করেছে পরেশ কন্যার বিরুদ্ধে। এমনকি, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবকরাও তার সমালোচনায় মুখর হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পাশাপাশি সমস্ত বেতন দুই কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে অঙ্কিতাকে। এছাড়াও কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ-এর ইন্দিরা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আর কোনদিন প্রবেশ করতে পারবে না সে। এই রায় ঘোষণার পরেই অবশ্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান যে, স্কুলের ছাত্র ছাত্রী এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বেশ ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল অঙ্কিতার। তবে এবার সেই ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের গলায় শোনা গেল অন্য সুর!

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিল অঙ্কিতা অধিকারী। তবে বর্তমানে বেআইনিভাবে তার চাকরিতে প্রবেশ করা শিক্ষার মতো পবিত্র স্থলকে অপমান করেছে বলেই মত সকলের। বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাজানা খাতুন এদিন বলে, “ম্যাডাম এটা ঠিক করেননি। দুর্নীতি করে স্কুলে ঢুকেছেন তিনি। তাঁর যেন শাস্তি হয়। যোগ্য মানুষেরাই যেন এবার থেকে চাকরি পায়। আমরা পড়াশোনা করে ভালো কাজ করতে চাই। কিন্তু ম্যাডাম যদি এই কাজ করেন, তাহলে আমরা তার কাছ থেকে কি শিখবো।”

অপর এক ছাত্রী রুপালি সরকার জানায়, “ম্যাডাম যে কাজ করেছেন, সেটা অন্যায়। কারো জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কারোর নেই। বর্তমানে কোর্ট যে রায় দিয়েছে, সেটা ঠিক।” অভিভাবকদের একাংশের মতে, যোগ্যতা ছাড়া স্কুলে সুযোগ পাওয়া অন্যায়। পরীক্ষায় না বসে পাস করা শিক্ষক থাকার থেকে না থাকা অনেক ভালো।

তবে আদালতের এই রায়ের ফলে বর্তমানে পুনরায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বহু চাকরিপ্রার্থীরা। এলাকার এক যুবকের কথায়, “চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আসা প্রয়োজন। আমিও এসএসসি দেবো। আমি চাইবো আদালতের এই রায়ের পর আর যেন কোন রকম অন্যায় না হয়।”

Related Articles

Back to top button