বাংলাহান্ট ডেস্ক: শূন্য থেকে শুরু করে কীভাবে সাফল্যের (Success Story) এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে শঙ্খ এয়ারের প্রতিষ্ঠাতা শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মার। তাঁর দৃঢ় সংকল্পের ফলে, শুরু থেকেই এই বিমানসংস্থাটি আধুনিক ভারতের আকর্ষণীয় সংস্থা হিসেবে উঠে আসছে। মাত্র ৭ বছর আগেও যিনি কানপুরের রাস্তায় টেম্পো ও লোডার চালাতেন, সেই ব্যক্তি আজ তার শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করলেন উত্তরপ্রদেশের প্রথম স্থানীয়ভাবে গড়া বিমানসংস্থা চালু করার মাধ্যমে।
শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মার অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
৩৫ বছর বয়সী বিশ্বকর্মার জীবনযাত্রা বিমান খাতের দিকে যাত্রা শুরু করে সিমেন্ট, ইস্পাত ও পরিবহনের ব্যবসার মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে সঞ্চিত সম্পদ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিমান পরিবহন মন্ত্রক থেকে প্রয়োজনীয় এনওসি (No Objection Certificate) লাভ করেছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শঙ্খ এয়ার ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তিনটি এয়ারবাস বিমানের প্রাথমিক বহর নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে, যার মাধ্যমে লখনউকে দিল্লি, মুম্বই ও অন্যান্য মেট্রো শহরের সাথে সংযুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন:আমেরিকার হাতে বন্দি হয়ে মুখ খুললেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট! কী জানালেন তিনি?
কানপুরের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া বিশ্বকর্মার শৈশব পড়াশোনার চেয়ে ব্যবসায়িক জীবনের দিকেই বেশি ঝোঁক ছিল। তিনি জানান, তিনি কেবল টেম্পোয় চড়েননি, সেগুলো চালিয়েও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ২০১৪ সালে সিমেন্ট ব্যবসায় প্রবেশের পর তার পথচলায় গতি আসে। TMT রিবার ইন্ডাস্ট্রিতে তার প্রথম বড় সাফল্য আসে, তারপর তিনি ক্রমে সিমেন্ট, খনি ও পরিবহন খাতে সম্প্রসারণ করেন। একটি বিশাল ট্রাক বহর গড়ে তুলে তিনি ব্যবসায়িক ভিতও মজবুত করেন।
প্রায় ৪ বছর আগে বিমান খাতে প্রবেশের চিন্তাভাবনা তার মাথায় আসে, এবং সেই থেকেই তিনি এনওসি বা No Objection Certificate পাওয়ার কাজ থেকে শুরু করে নিয়মকানুন সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝতে শুরু করেন। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা বিশ্বকর্মার মতে, তাদের পরিস্থিতিতে কেবল জীবিকা নির্বাহকেই যথেষ্ট মনে করা হত, কিন্তু তিনি বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দেখিয়েছেন। তার লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য বিমান ভ্রমণকে আরও সহজলভ্য করা।

আরও পড়ুন:ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন! ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে কী নির্দেশ দিল কেন্দ্র?
বিমানকে কেবল একটি পরিবহন মাধ্যম হিসেবেই দেখেন বিশ্বকর্মা, যা বাস বা টেম্পোর মতোই সাধারণ হওয়া উচিত। শঙ্খ এয়ারের এই যাত্রা কেবল একটি বিমানসংস্থা চালু করার গল্প নয়, বরং অসম্ভবকে সম্ভব করার এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। তাঁর গল্প থেকে প্রমাণ হয় যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমি যাই হোক, সাফল্যের শিখরে পৌঁছনো সম্ভব।












