বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমাদের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে বাধ্য করে এবং সাফল্যের (Success Story) এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে। মানুষের কষ্ট, যন্ত্রণা ও অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হয়ে অনেকেই ভাবতে শুরু করেন কীভাবে বৃহত্তর পরিসরে পরিবর্তন আনা যায়। এই ভাবনা থেকেই অনেক সময় জীবনের পথ বদলে যায়। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক সিদ্ধান্তের গল্প শ্রেয়াক গর্গের, যিনি চিকিৎসাবিদ্যা থেকে সিভিল সার্ভিসের পথে পা রেখে সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেছেন।
শ্রেয়াকের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা শ্রেয়াক গর্গের পরিবার শিক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর বাবা মুর্থালের দীনবন্ধু ছোটু রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী শ্রেয়াক ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি মহারাষ্ট্রের মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করার সময়ই তাঁর জীবনে আসে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড়।
আরও পড়ুন:চোখে দেখে বোঝা যাবে না! যে আলু কিনছেন তাতে ভেজাল নাকি? বুঝবেন কীভাবে?
এমবিবিএস ইন্টার্নশিপ চলাকালীন শ্রেয়াক গ্রামীণ এলাকায় কাজ করার সুযোগ পান। সেখানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, চিকিৎসার অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত দুর্বলতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেন। রোগীদের কষ্ট শুধু ওষুধ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে লাঘব করা যায় না—এই উপলব্ধিই তাঁর চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। তিনি অনুভব করেন, নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক স্তরে কাজ করতে পারলে বহু মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেখান থেকেই সিভিল সার্ভিসে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মেডিকেল পড়াশোনা শেষ করার পর শ্রেয়াক প্রথমবার কোনো বিশেষ প্রস্তুতি ছাড়াই ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন। সেই প্রচেষ্টা সফল না হলেও তিনি দমে যাননি। ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হন, তবে মেইন পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। তৃতীয় প্রচেষ্টায় আরও পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিয়ে তিনি ২০২৪ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৩৫তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন, যা তাঁকে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীদের মধ্যে স্থান করে দেয়।

আরও পড়ুন: পঞ্জাবে খুনের পর কলকাতায় এসে আত্মগোপন, হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেফতার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ৩ সদস্য
সাধারণত এই ধরনের র্যাঙ্কে প্রার্থীরা আইএএস পদের জন্য নির্বাচিত হন। তবে শ্রেয়াক তাঁর পছন্দের তালিকায় আইএএসকে প্রথমে রাখেননি। আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি ফরেন সার্ভিসকে অগ্রাধিকার দেন, যার ফলে তাঁর জন্য আইএফএস পদের প্রস্তাব আসে। প্রস্তুতির সময় তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা অধ্যবসায়ের সঙ্গে পড়াশোনা করতেন। শ্রেয়াক গর্গের এই যাত্রা প্রমাণ করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে পথ বদলালেও লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।












