বাংলা হান্ট ডেস্ক : মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) কোনও স্তরে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত কতটা হয়েছে, তা এবার থেকে আরও কড়াভাবে যাচাই করবে রাজ্য। পিএম পোষণ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তকারী আধিকারিকের রিপোর্টে যেন কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ না যায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন পদ্ধতি আনছে স্কুল শিক্ষা দফতর। জেলাগুলিকে নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে তদন্তের ফলাফল জমা দিতে বলা হয়েছে।
মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) অভিযোগ কড়া ভাবে দেখবে রাজ্য
এতদিন কোনও স্কুলে মিড-ডে মিল নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত হলেও রিপোর্টের ধরন সব জায়গায় এক রকম ছিল না। দফতরের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, অনেক প্রতিবেদনে অভিযোগের মূল বিষয়টিরই পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও আবার তদন্তে অনিয়মের ইঙ্গিত মিললেও তার পরবর্তী পদক্ষেপের উল্লেখ থাকছে না। ফলে অভিযোগের নিষ্পত্তি আদৌ কীভাবে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বদলাতেই ‘স্ট্যান্ডার্ড রিপোর্ট ফরম্যাট’ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নের নির্দেশের ভিত্তিতে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। তদন্তের ক্ষেত্রে শুধু স্কুলের বক্তব্য বা একটি-দুটি নথি দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা কত, সম্প্রতি কতজন পড়ুয়া নিয়মিত মিড-ডে মিল নিয়েছে এবং স্কুলের হাজিরার খাতায় সেই সময়ের উপস্থিতির সঙ্গে খাবার গ্রহণের হিসাব মিলছে কি না—এই তথ্যগুলি খতিয়ে দেখতে হবে। গত সাত দিনের তথ্য বিশেষভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে বক্তব্য নিয়ে তা লিখিতভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে। তাঁদের স্বাক্ষর করা বক্তব্যও তদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক পক্ষের বক্তব্য প্রশাসনের হাতে থাকবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে তদন্তের পরবর্তী ধাপও রিপোর্টে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথি তদন্তকারী আধিকারিককে সংযুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন : ‘উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব তিনি উপরে..,’ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা! বিতর্কে হুমায়ুন
আর আর্থিক দুর্নীতি বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না, এফআইআর হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে বা তার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে কি না—সবটাই রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে।স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ খাবার ও প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়াকড়ি।













