বাংলাহান্ট ডেস্ক: বি.টেক বা এম.টেক করার পর অধিকাংশ পড়ুয়ার লক্ষ্য থাকে সফলভাবে (Success Story) ভালো একটি চাকরি পাওয়া। কিন্তু মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) কৃষি ইঞ্জিনিয়ার মহেশ আসাবে (Mahesh Asabe) বেছে নিয়েছেন একেবারে অন্য পথ। চাকরির পিছনে না ছুটে আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে কৃষিকাজকেই নিজের সাফল্যের মাধ্যম করে তুলেছেন তিনি। একসময় মাত্র ৩ একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছিলেন মহেশ। আজ তাঁর খামারের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ একরে। বছরে প্রায় ২০০ টন ড্রাগন ফল উৎপাদনের পাশাপাশি তাঁর ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার ২ কোটি টাকারও বেশি। মহেশের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার করতে পারলে কৃষিকাজও হয়ে উঠতে পারে লাভজনক ব্যবসা।
মহেশ আসাবের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার আকোলা গ্রামের বাসিন্দা মহেশের কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার বদলে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। ডি ওয়াই পাটিল কলেজ থেকে কৃষি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক করার পর উদয়পুরে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে এম.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই যাত্রায় পরিবারের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৩-১৪ সালে মহেশের বাবা একটি ম্যাগাজিনে ড্রাগন ফল চাষের বিষয়ে পড়েন। কম জলে এই ফল চাষের সম্ভাবনা তাঁদের আগ্রহী করে তোলে। এরপর ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯ হাজার ড্রাগন ফলের চারা আমদানি করে ৩ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করে পরিবারটি। সেই ছোট উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে (Success Story)।
আরও পড়ুন: পুলিশের অনুমতি না নিয়েই শুক্রবার দিল্লিতে জ্ঞানেশ বিরোধী মিছিল! আমন্ত্রিত অভিজিৎ-নেহা বোরা
কৃষিকাজকে আরও আধুনিক করে তুলতে শুধু বইয়ের জ্ঞানের উপর নির্ভর করেননি মহেশ। পড়াশোনার সময় ইজরায়েলে ৪৫ দিনের কৃষি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। সেখানে জল ব্যবস্থাপনা, ড্রিপ সেচ এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর ২০১৮ সালে ভিয়েতনামে গিয়ে ড্রাগন ফল চাষের উন্নত পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের খামারে নতুন কৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করেন। প্রথমে এক একর জমিতে আলাদা করে পরীক্ষামূলকভাবে উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করেন তিনি। ধীরে ধীরে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রচলিত কৃষিপদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে খামারের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনেন মহেশ।
বর্তমানে তাঁর ৬০ একরের খামারে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি পেয়ারা, ডালিম, বরই এবং আতার মতো ফলও চাষ করা হয়। জল সংরক্ষণের জন্য খামারে পুকুর তৈরি করেছেন মহেশ। পাশাপাশি, ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি গাছের শিকড়ে জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে জলের অপচয় কমানো যায়। আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ এবং গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের মতো কাজেও ধীরে ধীরে যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়েছেন তিনি। এর ফলে শ্রমিকের উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি চাষের বিভিন্ন কাজ আরও পরিকল্পিতভাবে করা সম্ভব হয়েছে। শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও তাঁর লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: নজরে জেন জি! ইনস্টাগ্রামে ‘এন্ট্রি’ সোনিয়া গান্ধীর, প্রথম রিলেই বিশেষ চমক
ফসল ফলানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পাওয়া এবং বাজারে পৌঁছনোর বিষয়েও বিশেষ নজর দিয়েছেন মহেশ। সেই কারণে নিজের খামারে কোল্ড স্টোরেজ, প্যাকহাউস এবং ফলের পাল্প তৈরির জন্য একটি প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট গড়ে তুলেছেন তিনি। মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে তাঁর উৎপাদিত ফল রিলায়েন্স, স্টার বাজার ও বিগ বাজারের মতো খুচরো বিপণন সংস্থার পাশাপাশি জোম্যাটো এবং সুইগির মতো প্ল্যাটফর্মেও বিক্রি হয়। বর্তমানে তাঁর খামারে বছরে প্রায় ২০০ টন ড্রাগন ফল উৎপাদিত হয় এবং বার্ষিক টার্নওভার ২ কোটি টাকারও বেশি। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ২৫ হাজারেরও বেশি কৃষককে কৃষিকাজের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। মহেশ আসাবের এই সাফল্যের কাহিনি (Success Story) দেখিয়ে দেয়, আধুনিক প্রযুক্তি, দূরদর্শিতা ও পরিশ্রমের মেলবন্ধনে কৃষিকাজও হয়ে উঠতে পারে আর্থিক উন্নতির বড় মাধ্যম।














