বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাফল্যের (Success Story) পথ সবসময় মসৃণ হয় না। কখনও কখনও সেই পথেই হাঁটতে হয়, যেখানে আশপাশের মানুষ বারবার ব্যর্থতার আশঙ্কা দেখান। রাজস্থানের (Rajasthan) আলওয়ারের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা প্রেম প্রকাশ মীনার (Prem Prakash Meena) গল্পও তেমনই। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢুকে পড়েছিলেন কর্পোরেট জগতে। বিদেশের মাটিতে কাজ করার সুযোগও পেয়েছিলেন। রাশিয়া ও আজারবাইজান-সহ বিভিন্ন দেশে চাকরি করে স্বচ্ছন্দ জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালে আচমকাই তাঁর মনে হয়, শুধুমাত্র আর্থিক সাফল্যই জীবনের শেষ কথা নয়। সমাজের জন্য সরাসরি কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তখন তিনি নতুন করে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রেম প্রকাশ মীনার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য খুব সহজ ছিল না। ভালো বেতনের চাকরি, প্রতিষ্ঠিত পেশা এবং বিদেশে কাজের সুযোগ ছেড়ে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুনে অনেকেই তাঁকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। পরিবার এবং পরিচিত মহল থেকেও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পড়াশোনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকা একজন মানুষের পক্ষে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। কিন্তু প্রেম প্রকাশ সেই সমালোচনাকে নিজের পথে বাধা হতে দেননি। বরং লক্ষ্য স্থির রেখে নতুন করে পড়াশোনায় ফিরেছিলেন তিনি (Success Story)।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি! এবারেও কী পাশে সোনম ওয়াংচুক?
প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা পথ। কোনও নামী কোচিং প্রতিষ্ঠানের সাহায্য না নিয়ে নিজেই পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি করেন প্রেম প্রকাশ। বই পড়া, নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়া এবং প্রতিটি বিষয়ের মূল ধারণা পরিষ্কার করার উপর জোর দেন। একইসঙ্গে সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, যাতে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনা ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। নিজের দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পড়াশোনা এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে কোচিং ছাড়াও UPSC-র মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।
পরিশ্রমের ফলও মিলতে শুরু করে দ্রুত। প্রথম চেষ্টাতেই UPSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রেম প্রকাশ। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু পরীক্ষায় সফল হওয়া নয়, IAS অফিসার হওয়া। সেই কারণে প্রথম সাফল্যের পরও প্রস্তুতি থামাননি তিনি। দ্বিতীয়বার আরও ভালো ফল করার লক্ষ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই পরিশ্রম সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছয়। IAS র্যাঙ্ক অর্জন করে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। যে মানুষকে একসময় দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার কারণে অসম্ভবের কথা শুনতে হয়েছিল, তিনিই শেষ পর্যন্ত দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।

IAS হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাঁর কাজের ধরনে সেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ভাবনাই গুরুত্ব পেয়েছে। ‘ন্যায় আপকে দ্বার’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার এবং সম্ভব হলে ঘটনাস্থলেই সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কর্পোরেট জীবনের নিরাপদ ও আকর্ষণীয় ভবিষ্যৎ ছেড়ে প্রশাসনিক পরিষেবায় আসার সিদ্ধান্তকে তিনি নিজের জীবনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর যাত্রা দেখায়, পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাও জীবনের বড় লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। প্রতিকূলতা, সমালোচনা কিংবা বয়সের ব্যবধান—কোনও কিছুই যদি সংকল্পকে থামাতে না পারে, তাহলে নতুন করে শুরু করেও নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব (Success Story)।













