৩৭০ বাতিল সম্পূর্ণ বৈধ, জম্মু কাশ্মীরে নির্বাচনের ডেডলাইন বেঁধে দিল আদালত, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : আজ থেকে বছর চারেক আগে ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government) সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ (Article 370) প্রত্যাহার করা হয়। তারপর থেকেই বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে ভূস্বর্গ জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu And Kashmir) । বিরোধীরা এই বিষয়টি নিয়ে বহু জলঘোলা করলেও কেন্দ্র তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। আর কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আর এবার তারই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court On Article 370)।

   

আজকের দিনেই ফের এক যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এইদিন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, জম্মু-কাশ্মীরের যুদ্ধকালীন অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আর্টিকেল ৩৭০ লাগু করা হয়েছিল। এবং তা নিতান্তই সাময়িক। এবং এবার জম্মু কাশ্মীরকে সম্পূর্ণ রূপে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় চলে এসেছে।

শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, জম্মু কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার নির্বাচন করাতে হবে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, “আমরা মনে করি, ভারতে অন্তর্ভূক্তির পর জম্মু-কাশ্মীরের কোনও অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব রাখে না।”

আরও পড়ুন : এবার ভারতের নজরদারিতে গোটা বাংলাদেশের আবহাওয়া! বঙ্গে আসছে দুই নতুন ‘ডপলার’

এইদিন প্রধান বিচারপতির রায়ের সমর্থন জানান বিচারপতি গাভাই ও বিচারপতি সূর্যকান্ত। এই রায়ের বিরোধিতা করেননি বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌলও। পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেয়, কেন্দ্রের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত বৈধ। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে। তবে লাদাখ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলই থাকবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন : হাহাকার পড়শি দেশে, রপ্তানি বন্ধ হতেই ২৫০ টাকা পেঁয়াজের দাম! ফের ভারতের কাছে হাত পাতল বাংলাদেশ

 

article 370 hearing supreme court 051820 16x9

সেই সাথে বিচারপতি কল আরও বলেন, ‘‘শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করা সেনার কাজ। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তাদের কাজ নয়। কাশ্মীরে সেনা ঢোকায় তার কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।’ যদিও হতাশার সুর শোনা গেছে কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসি নেতা ওমর আবদুল্লা। তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ। তবে আশাহত নই। আমাদের লড়াই জারি থাকবে। বিজেপির এই জায়গায় পৌঁছতে বহু বছর সময় লেগেছে। আমরাও দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’