বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। সেই ঘটনার জায়গায় যেতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনের কড়াকড়ি ও ১৬৩ ধারা জারির মধ্যেই শেষ পর্যন্ত রুটে সামান্য বদল এনে তাঁর মিছিলের অনুমতি দিল হাই কোর্ট।
রুট বদলে শুভেন্দুকে (Suvendu Adhikari) মিছিলের অনুমতি দিল হাই কোর্ট
আনন্দপুরের নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে যেতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । ঠিক সেই সময়েই বুধবার বিকেল থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ১০০ মিটার এলাকায় ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি করে পুলিশ। তবে প্রশাসনের এই কড়াকড়ির মধ্যেও রুটে সামান্য পরিবর্তন এনে শুভেন্দুকে মিছিল করার অনুমতি দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।
কী নির্দেশ দিল আদালত?
বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত কর্মসূচি করা যাবে। শীতলা মন্দির থেকে বাঁদিকে ঘুরে ইএম বাইপাস ধরে ব্রিজের নীচ দিয়ে নরেন্দ্রপুর থানার দিকে মিছিল যাবে। এই মিছিলে সর্বোচ্চ ২০০০ জন অংশ নিতে পারবেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও উস্কানিমূলক বা প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সম্পূর্ণ দায় থাকবে মিছিলের উদ্যোক্তাদের উপর। যানজট এড়াতে নজর রাখবে পুলিশ। পাশাপাশি, ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। এছাড়া পাঁচ জনের একটি প্রতিনিধি দল থানায় গিয়ে ডেপুটেশন দিতে পারবেন।
কেন আপত্তি তুলেছিল রাজ্য?
শুনানিতে সরকারি পক্ষ থেকে মিছিলের বিরোধিতা করা হয়। সরকারি আইনজীবীর দাবি, ঘটনাস্থলের কাছেই একটি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে বড় জমায়েত হলে ভিড় বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। এর জবাবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আইনজীবী জানান, শীতলা মন্দির থেকে বাঁদিকে ঘুরে ইএম বাইপাস দিয়েই মিছিল হবে। এতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা বা যানজটের আশঙ্কা নেই। প্রয়োজনে রুট আরও ছোট করতেও তাঁরা রাজি ছিলেন। এই যুক্তি বিবেচনা করেই আদালত রুট বদলে মিছিলের অনুমতি দেয়।

আরও পড়ুনঃ UGC-র ‘বিতর্কিত’ নিয়মে ফুলস্টপ, Unreserved পড়ুয়াদের দাবিতে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত ও উদ্ধারকাজে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেই কারণেই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়। বারুইপুর মহকুমা প্রশাসনের তরফে নাজিরাবাদ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই বুধবার শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেন, “১৬৩ ধারা জারির আড়ালে আসলে বিজেপিকে আটকাতে চাইছে প্রশাসন। আমাদের ভয় পাচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে, সেই আশঙ্কাতেই তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”












