ছিল ভীষণ মানত, কালীঘাট মন্দিরে দণ্ডি কেটেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ! এই ইতিহাস জানতেন?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : খুব অল্প বয়স থেকেই নানান রোগে ভুগতেন স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda)। যুবক বয়সে এসেও তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়ার ধাত কমেনি। নরেনের মা এই বিষয় নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করতেন। তাঁর সন্তান বিলে ছোট থেকেই অসুস্থতায় ভুগতেন মাঝে মাঝেই। বড় হওয়ার পরও অসুস্থতার ধাত কমেনি। কী করে সুস্থ হলেন স্বামীজী? চলুন দেখে নিই।

   

তাঁর মা তার অসুস্থতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে মা কালির (Ma Kali) কাছে মানত করলেন। তিনি মা কালির কাছে মানত করে ছিলেন দন্ডি কাটার। তাঁর বিশ্বাস ছিল নরেনের অসুখ সারবে মা কালির কৃপাতেই। এই বিষয় নিয়ে তিনি তাঁর ছেলেকে তখন কিছু জানাননি। এরপর স্বামীজী সন্ন্যাস গ্রহণের পর বিদেশে গেছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর তাঁর মা তাঁকে মানত নিয়ে সবটা জানান।

প্রতিবারের মতো সেবারেও শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথির উৎসব আয়োজিত হয় দক্ষিণেশ্বরে (Dakshineshwar)। বিদেশ থেকে ফেরার পর তিনি দক্ষিনেশ্বরে যান। তাঁকে দেখার জন্য বহু মানুষের ভিড় জমে ছিল সেদিন। তাঁর আসার জন্য মানুষের এই ভিড় দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। ফলে বিবেকানন্দের সম্পর্কে ভুল বার্তা বলা হয়, তিনি নাকি সাহেবদের সাথে মিশে অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়েছেন। এও বলা হয় তিনি ‘কালাপানি’ পার করেছেন। এত কথার পর স্বামীজী সেখান থেকে যাওয়ার পর মন্দির শুদ্ধ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘WBCS-এ উর্দু, হিন্দি চাইলে ওয়াইসি-যোগীকে মুখ্যমন্ত্রী করতাম’! মমতার উপর রেগে বোম বাংলা পক্ষ

তাঁর মা, কালী মায়ের মানতের কথা জানিয়েছিলেন। সেই কথা মাথায় রেখে তিনি বেছে নিয়ে ছিলেন কালীঘাটের মন্দিরকে। সেখানে গিয়ে পুজো দেন বিবেকানন্দ। মানত অনুসারে তিনি সেখানে দন্ডী কাটেন। তাঁর মায়ের মানত পূরণ হয়। সেই কারণেই নরেন নিজের জীবনে কালীঘাটের মা কে নানান রূপে আবিষ্কার করেছেন। এই ঘটনার পরেই কালীঘাটের (Kalighat) সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন স্বামীজী।

kalighat

এই কালীঘাটের সাথে বিবেকানন্দ এবং রামকৃষ্ণর (Ramkrishna) কথা বললে, উঠে আসে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (Girishchandra Ghose) নামও। গিরিশচন্দ্র আগে নাস্তিক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তাঁর আস্তিক হয়ে ওঠার পিছনে এই কালীঘাটের মায়েরই হাত রয়েছে। এক সময় গিরিশ্চন্দ্রও নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলেন। তাঁর হয়েছিল ‘বিসূচিকা’ নামে একটি রোগ। যাকে আমরা এখন কলেরা নামে চিনি। তিনি যখন এই রোগে মৃত্যুসজ্জার মুখে ছিলেন তখন তিনি এক অপূর্ব দৃশ্য দেখে ছিলেন। স্বামীজীর মুখে শোনা যায়, গিরিশের স্বপ্নে এসেছিলেন কালীঘাটের মা, যিনি পরে ছিলেন লালপাড় সাদা শাড়ি। তিনি গিরিশের কাছে আসেন এবং স্নেহের সাথে বলেন, ‘বাবা এটি খাও সেরে যাবে, তুমি যে কবি হবে!’ হতবাক গিরিশ তখন বলে ওঠেন, ‘কবি..?.. আমি কবি হতে চাই না।’ মা তাঁকে বুঝিয়ে বলেন, অরে বোকা কবি মানে যে জ্ঞানী, তা জানিস না?..না এটা খেয়েনে’। পরে গিরিশ জানান, তিনি সত্যি সন্দেশের স্বাদ পেয়েছিলেন। এবং তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন।