বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ভারতে (India) চিনা (China) স্মার্টফোন (Smartphone) ব্র্যান্ডগুলির মার্কেট শেয়ার কমে ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যা গত ৮ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। মূলত, মেমোরি চিপের আকাশছোঁয়া দাম এই সংস্থাগুলিকে তাদের বাজেট মডেল তথা সস্তার ফোন কমাতে বাধ্য করেছ। এদিকে, এই সেগমেন্ট থেকেই আগে তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হত। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল। জানিয়ে রাখি যে, টেকনোলজি মার্কেট রিসার্চ ফার্ম ওমডিয়ার মতে, গত ত্রৈমাসিকে চিননা ব্র্যান্ডগুলির মার্কেট শেয়ার ছিল ৬৮ শতাংশ। যেখানে তার আগের ত্রৈমাসিকে তা ছিল ৭১ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৭৫ শতাংশ। ২০২০ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে এই হার সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশে পৌঁছেছিল। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এবার এই শেয়ার ছিল ৬৭ শতাংশে। যা ২০১৯ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের পর থেকে সর্বনিম্ন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতে (India) হু হু করে কমল চিনা স্মার্টফোনের আধিপত্য:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভিভো, ওপো এবং শাওমির মতো সংস্থাগুলি তাদের বাজেট মডেলের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। মেমোরির উচ্চমূল্যের কারণে এই সেগমেন্টটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে লাভা এবং এআই+ এর মতো দেশীয় কোম্পানিগুলির জন্য দীপাবলির আগেই স্বল্প বাজেটের গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওমডিয়ার প্রিন্সিপাল অ্যানালিস্ট সান্যম চৌরাসিয়া ET-র একটি রিপোর্টে বলেছেন যে, গত ৪ থেকে ৫ ত্রৈমাসিক ধরে চিনা সংস্থাগুলি খরচ নিয়ন্ত্রণের জন্য ফোনের স্পেসিফিকেশন (ফিচার) কমিয়ে আসছে। সহজ কথায়, তারা ফিচার কমিয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেছেন যে, সংস্থাগুলি কম দামের সেগমেন্টে তাদের মডেলের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে, আর মুনাফা বজায় রাখতে তারা মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বিক্রির ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, বিশেষজ্ঞদের মতে, মেমোরির উচ্চমূল্য স্মার্টফোন বাজারের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এই শিল্পে অত্যন্ত কম মুনাফার কারণে চিনা সংস্থাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে স্যামসাং এবং অ্যাপলের মতো বড় সংস্থাগুলি তাদের প্রিমিয়াম পরিকারণে বাজার অংশ বাড়াতে সাহায্য পাচ্ছে। এদিকে, এন্ট্রি-লেভেল (সাশ্রয়ী) ফোনের বাজারে চাহিদা থাকলেও, ডিভাইসের ক্রমবর্ধমান দাম গ্রাহকদের বাজেট বাড়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে এবং তাদের পণ্যের সম্ভার বজায় রেখে বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই প্রধানত মনোযোগ দিচ্ছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত ত্রৈমাসিকে ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলির সামগ্রিক শেয়ার এক বছর আগের ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশ হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত ত্রৈমাসিকে রেকর্ড করা এই পরিসংখ্যানটি অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৮-এর পর থেকে সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটে ফের ভারত-পাকিস্তানের টক্কর! কবে-কোথায় সম্পন্ন হবে ম্যাচ?
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিসার্চ ডিরেক্টর তরুণ পাঠক বলেছেন যে, মিভি এবং বোল্ট-এর মতো নতুনদের পাশাপাশি এআই+ এবং লাভা ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলির প্রায় ৯৫ শতাংশের শেয়ার রয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে চালু হওয়া এআই+-এর শিপমেন্ট গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে ৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মিভি এবং বোল্ট উভয়েই পূর্বের ত্রৈমাসিকে তাদের স্মার্টফোন লঞ্চ করেছিল। আসলে, সামগ্রিকভাবে বাজার পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
আরও পড়ুন: মিস করবেন না সুযোগ! Amazon-এ সেলে 15,000 টাকারও কমে মিলছে দুর্ধর্ষ ফোন, রয়েছে 6,500 mAh ব্যাটারি
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ এবং ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চলতি জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে স্মার্টফোন শিপমেন্ট গত বছরের তুলনায় ২০-২৬ শতাংশ কমে ৩.৫৮ কোটি ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর কারণ হল মেমোরির ক্রমবর্ধমান খরচ। যা স্মার্টফোনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং গ্রাহকদের ফোন আপগ্রেড করা স্থগিত করতে বাধ্য করেছে। এই মন্দাটি দীপাবলির ঠিক আগে দেখা দিয়েছে। এই সময়ে সাধারণত স্মার্টফোনের মতো জিনিসপত্রের কেনাকাটা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলির পক্ষে এই গতি দীর্ঘকাল ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।














