DA নিয়ে বাড়ছে চাপ! এই মাস থেকেই মিলতে পারে মহার্ঘ্য ভাতা? বছর শেষে আশার আলো দেখছে কর্মীরা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মহার্ঘ্য ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে রাজ্য আর সরকারি কর্মচারীদের (State Government Employees) দ্বন্দ্ব আজও অব্যাহত। গত বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল ডিএ আন্দোলন। ইতিমধ্যেই ৩২২ দিন পার করে গেছে ৩১৮ দিন পার সংগ্রামী যৌথমঞ্চের ডিএ আন্দোলন। বকেয়া এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বাড়ানোর জন্য সোচ্চার হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। তবে রাজ্য সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল।

   

কিছুদিন আগেই এক সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছিলেন, ডিএ বাধ্যতামূলক নয়, এটি একটি বিকল্প মাত্র। সেই সাথে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের অতিরিক্ত ছুটির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন কর্মীরা অনেক অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা তো পায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পে কমিশনের নতুন নির্দেশনা মেনেই ডিএ দেওয়া হয়েছে। এবং সেই কারণে, গত দুই বছরে ২ লক্ষ ৫২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করেছে সরকার।

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে চিঁড়ে ভিজবেনা বলেই জানিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। সংগ্রামী যৌথমঞ্চের স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে যে, বছর শেষ হওয়ার আগে থেকেই বাড়বে আন্দোলনের ঝাঁঝ। আগামী বছরের শুরুতেও চলবে মহা মিছিল। ১৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর নবান্নর সামনে অবস্থান বিক্ষোভ ও সভার ডাক দিয়েছিলেন ডিএ আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন : এবার থেকে পড়ুয়াদের দিতে হবে ২ বার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা! নতুন নিয়মের পথে সংসদ, জানুন বিশদে

যদিও হাইকোর্টের বক্তব্য, নবান্ন বাসস্ট্যান্ডের মত একটা কর্মব্যস্ত এলাকায় চারদিনব্যাপী আন্দোলন করার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এতে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়বে। তবে হাইকোর্ট জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা চাইলে মামলা দায়ের করতে পারে। এমতাবস্থায় সেই কর্মসূচি এবার কোন পথে এগোবে তা এখন বিবেচনাধীন বিষয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত কর্মচারীরা মে হারে মহার্ঘ্য ভাতা পায় তারা তার সিকিভাগও পাননা। কেন্দ্রের দেখাদেখি অন্যান্য রাজ্যগুলিও ডিএ বৃদ্ধির পথে হেঁটেছে। এই বিষয়ে কেবল পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরই কোনও উচ্চবাচ্য নেই। তাই এবার বৃহৎ আন্দোলনের কথা ভাবছে আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন : কর্মসূচি শুরুর আগেই বড় ধাক্কা, আন্দোলনকারীদের ফিরিয়ে দিল হাইকোর্ট! বড় প্রতিজ্ঞা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

এদিকে বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচনের দামামা। এমতাবস্থায় এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মীদের ভোট কি হাতছাড়া করতে চাইবে মমতা সরকার? তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভোট বৈতরণী পার করতে মুখ্যমন্ত্রীর আগের মন্তব্য অনুযায়ী কেন্দ্রীয় হারে না হলেও ৩ শতাংশ ডিএ বাড়াতে পারে সরকার।