বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কর্তব্যপথ কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় সেনার চারপেয়ে ও ডানাওয়ালা সাহায্যকারীরা। সীমান্ত, দুর্গম পাহাড় ও প্রতিকূল পরিবেশে সেনাবাহিনীর নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে ওঠা প্রাণীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনায় দেশি প্রজাতির প্রাণী ব্যবহারের ওপর জোর বাড়ার প্রতিফলন দেখা যাবে এই ঐতিহাসিক প্যারেডে।
ভারতের (India) ইতিহাসে প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে হাঁটবে ভারতীয় সেনার সারমেয়রাও:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এবারের কুচকাওয়াজে দুটি ব্যাকট্রিয়ান উট, চারটি জাংস্কার প্রজাতির ঘোড়া, চারটি শিকারি পাখি, দশটি দেশি সেনা কুকুর এবং ছয়টি বিদেশি প্রজাতির প্রশিক্ষিত কুকুর অংশ নেবে। পুরো দলটিই গঠিত হয়েছে সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায়, যা আত্মনির্ভরতার বার্তাও বহন করছে।
আরও পড়ুন:চলতি মাসের এই দিনে দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট! দুর্ভোগ এড়াতে আগেভাগে সেরে রাখুন প্রয়োজনীয় কাজ
কর্তব্যপথের মার্চে সবার সামনে থাকবে লাদাখের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাকট্রিয়ান উটের দল। প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় সেনার রসদ পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই উটগুলি। একটি ব্যাকট্রিয়ান উট প্রায় ২৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম, যা দুর্গম এলাকায় সেনার গতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
উটগুলির পিছনে থাকবে লাদাখের বিশেষ জাংস্কার ঘোড়া। কম অক্সিজেন ও তীব্র ঠান্ডায় কাজ করার জন্য বিশেষ উপযোগী এই ঘোড়াগুলি ভারী সামরিক সরঞ্জাম বহনে দীর্ঘদিন ধরে সেনার সহায়ক। শিকারি পাখিদের উপস্থিতিও আকর্ষণ করবে দর্শকদের; পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় নজরদারি ও বিশেষ অভিযানে এদের ব্যবহার করে সেনাবাহিনী।

সবশেষে থাকবে প্রশিক্ষিত কুকুরের দল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশি প্রজাতির কুকুরদের দক্ষতা নজর কেড়েছে সেনা কর্তৃপক্ষের। বোমা শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে তাদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। বিদেশি প্রজাতির উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশি কুকুরদের গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিতই দিচ্ছে এই উপস্থিতি। সামগ্রিকভাবে, কর্তব্যপথে প্রাণী সঙ্গীদের এই অভিষেক সেনাবাহিনীর বহুমাত্রিক কাজে তাদের অবদানের একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।












