বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাটের রাজকোট ও পার্শ্ববর্তী এলাকা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আট থেকে নয়বার ভূমিকম্পের (Earthquake) কম্পনে কেঁপে উঠেছে। প্রায় বারো ঘণ্টার মধ্যে ধারাবাহিক এই মাইক্রো মাত্রার কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা হয়নি। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটি রাত ৮টা ৪০ মিনিটের কিছু পরে এবং শেষ কম্পনটি শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে অনুভূত হয়।
১২ ঘন্টায় ৯ বার ভূমিকম্প (Earthquake) গুজরাটে:
রিখটার স্কেলে এই কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল ২.৭ থেকে ৩.৮-এর মধ্যে। নয়টির মধ্যে ৪টির মাত্রা ৩ ছাড়িয়েছে, যার সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৩.৮। কম্পনগুলোর উৎসস্থল ছিল রাজকোট সংলগ্ন উপলেতার ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও, রাজকোট এলাকায় এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলি কম্পন ভূতত্ত্ববিদদের মতে অস্বাভাবিক ঘটনা এবং ভূগর্ভস্থ টেকটনিক চাপের আকস্মিক নিঃসরণের ইঙ্গিতবাহী।
আরও পড়ুন: নিজের দেশেই বিপাকে পাক প্রধানমন্ত্রী! শাহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
এই ঘটনা স্থানীয়দের মনে ২০০১ সালের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যখন জানুয়ারিতে ৭.৭ মাত্রার একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প গুজরাটকে তছনছ করে দিয়েছিল। সেবার প্রধান ধাক্কার পরও পরবর্তী ৩০ ঘণ্টায় প্রায় ২৪টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছিল এবং কাথরোল হিল, গোরা ডোঙ্গার এবং নর্থ ওয়াগদ ফল্ট লাইনের মতো একাধিক ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে কচ্ছ অঞ্চলে কমপক্ষে ১০টি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, যার মধ্যে কচ্ছ মেইনল্যান্ড ফল্ট এবং সাউথ ওয়াগদ ফল্ট প্রধান। গত ফেব্রুয়ারিতেই কচ্ছে ৪.৬ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই কম্পনগুলিকে তারা ভূগর্ভস্থ চাপের নতুন বিস্তার এবং সম্ভাব্য নতুন ফল্ট সিস্টেমের দিকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: সব পরীক্ষাতেই স্টার মার্কস নিয়ে পাশ, যাত্রীদের জন্য কবে থেকে খুলবে হাইড্রোজেন ট্রেনের দরজা?
এই ধারাবাহিক মাইক্রো কম্পন ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে পারে কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গভীর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। যদিও বর্তমান কম্পনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প-প্রস্তুতি, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছেন। রাজ্য প্রশাসনও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে।












