বাংলাহান্ট ডেস্ক: সিকিমের ঝুলিতে এলো আরও এক সেরার সেরা শিরোপা। ‘ভারতের (India) সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্য’ হিসেবে সম্মানিত হল এই পাহাড়ি রাজ্য। শিলিগুড়ির একটি হোটেলে আয়োজিত তিনদিনের বেঙ্গল ট্র্যাভেল মার্ট ২০২৬-এ এই স্বীকৃতি লাভ করে সিকিম। রবিবার সন্ধ্যায় সিকিম সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রেরণা চামলিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মান গ্রহণ করেন। ৯ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে দেশের একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি অংশ নেয় নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ও ভুটান সরকারের পর্যটন বিভাগ।
‘ভারতের (India) সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্য’ শিরোপা পেল সিকিম
সিকিম সরকারের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ, পর্যটকদের প্রতি উন্নত আতিথেয়তা, পর্যটন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুপরিকল্পিত উন্নয়নের নিরিখেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গল ট্র্যাভেল মার্ট ২০২৬ পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন বাণিজ্য মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। এই আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্টে ১৬০টিরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশগ্রহণ করে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত নীতিনির্ধারক, ট্যুর অপারেটর, হোটেল ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে এই সম্মেলন।
আরও পড়ুন: বয়কটের ডাক উঠলেও রমরমিয়ে চলছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য! কী জানাল ইউনূস সরকার?
অনুষ্ঠানে নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেল এজেন্টস এবং হোটেল অ্যান্ড রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ভুটান-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বেঙ্গল ট্র্যাভেল মার্ট-এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রেরণা চামলিং বলেন, ভারতের সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্যের স্বীকৃতি সিকিমের স্থায়িত্ব-নির্ভর পর্যটন ভাবনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আতিথেয়তা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন উৎসাহ জোগাবে।
রাজ্য পর্যটন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে হড়পা বানের পর ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধার হওয়ায় ধীরে ধীরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। নাগা-লাচুং রুট পুনরায় চালু হওয়ার ফলে উত্তর সিকিমে পর্যটন বুকিং উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে পর্যটনের সম্ভাবনা ফের উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন তৈরি করবে চিন! সম্পন্ন হল চুক্তিও, বিপদ বাড়বে ভারতের?
এদিকে লাচেন রুটের তারাম চু সেতুর কাজও শেষের পথে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই সেতু চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেতু চালু হলে লাচেন এবং গুরুদোংমার হ্রদ পুরোপুরি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া সহজ হবে। পর্যটন দফতরের আশা, এর ফলে উত্তর সিকিমে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে এবং রাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।












