বাংলাহান্ট ডেস্ক: সামরিক প্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী অগ্রগতির সাক্ষী হতে চলেছে ভারত (India)। বিশ্বে প্রথমবারের মতো র্যামজেট ইঞ্জিনচালিত আর্টিলারি গোলা ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। দীর্ঘ গবেষণা ও একাধিক সফল পরীক্ষার পর ১৫৫ মিমি হাউইটজার কামানের জন্য এই অত্যাধুনিক গোলা তৈরি করা হয়েছে। আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি কানপুর, আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (এআরডিই) এবং রিসার্চ সেন্টার ইমারতের (আরসিআই) যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই গোলা পাল্লা, গতিবেগ ও স্পষ্টতা—সবদিক থেকেই প্রচলিত শেলের তুলনায় বহুগুণ বেশি শক্তিশালী।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (India)-র মাধ্যমে বিশ্বে প্রথম র্যামজেট গোলা ব্যবহার করবে ভারতীয় সেনা
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে সুইডিশ বোফর্স, মার্কিন এম-৭৭৭ বা দেশীয় ধনুষ ও এটিএজিএস কামান ব্যবহার করে, সেগুলিতে ব্যবহৃত প্রচলিত গোলার কার্যকর পাল্লা সাধারণত ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু নতুন র্যামজেট গোলার পাল্লা হবে তার দ্বিগুণেরও বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন একটি বড় মাইলফলক।
আরও পড়ুন: ‘খারাপ প্রতিবেশী’, নাম না করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জয়শঙ্কর, দিলেন কড়া বার্তাও
র্যামজেট প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি উড়ানের সময় বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে জ্বালানির দহন প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়। এর ফলে গোলাটি দীর্ঘসময় ধরে অত্যন্ত উচ্চগতিতে উড়তে পারে এবং প্রচলিত গোলার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতি অর্জন করে। এই উচ্চগতি ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পাল্লা শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
গত বছর এআরোও ইন্ডিয়া ২০২৫ প্রদর্শনীতেই ভারতীয় সেনাবাহিনী এটিএজিএস কামান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ৮০ কিলোমিটার পাল্লার একটি র্যামজেট গোলার নমুনা প্রদর্শন করেছিল। সেই থেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সমস্ত পরীক্ষা সফল হওয়ায় ইতিমধ্যেই এই গোলার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের আর্টিলারি শক্তি কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।

আরও পড়ুন:সোনার দাম বাড়তেই ঋণেও সোনালি ঝলক! ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি গোল্ড লোনে
বিশ্বের কয়েকটি দেশ র্যামজেট প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করলেও, ভারতই প্রথম দেশ হিসেবে এটিকে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি সুইডেনের একটি প্রতিরক্ষা সংস্থা ১৪০ কিলোমিটার পাল্লার র্যামজেট গোলার পরীক্ষা চালালেও তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই তুলনায় ভারতের সাফল্য দেশকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি আত্মনির্ভর ও বিশ্বব্যাপী শক্তিতে পরিণত করছে।












