বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অগ্নিগর্ভ মালদহের চাঁচলে। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে এলাকাজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়ায়। গন্ডগোল মেটাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু সেই মুহূর্তে এক তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা যা কাণ্ড ঘটায় তা আরও বিতর্ক তৈরি করেছে।
কোমরের বেল্ট খুলে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করেন তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের একটি ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের মাঝে হাজির হন স্থানীয় তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা তথা প্রাক্তন ব্লক যুব সভাপতি জয়ন্ত দাস। অভিযোগ, কোমরের বেল্ট খুলে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করেন তিনি। সেইসময় গন্ডগোল থামাতে এসেছিলেন চাঁচল থানার ASI সমীর কুমার সিনহা। তাঁকেও বেল্ট দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকেন ওই তৃণমূল নেতা।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, সাদা টি-শার্ট পরিহিত ASI ফোনে কথা বলতে বলতে গন্ডগোল থামানোর চেষ্টা করছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্যান্ডো গেঞ্জি পরে জয়ন্ত দাস বেল্ট দিয়ে যাকেই পাচ্ছিলেন তাকেই মারছিলেন। আর সেই মার থেকে বাদ যায়নি ওই অফিসারও।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলকে (Trinamool Congress) নিশানা করে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ওই এলাকার মিনি অথবা লোকাল অনুব্রত। আর এই ঘটনার জন্য তো পুলিশ নিজেই দায়ী। পুলিশ এদের যদি আজ মাথায় না তুলত, তাহলে এরা মাথায় উঠে নাচতে পারত না। পুলিশ এখন মন্দিরের ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে। পুলিশের লাঠির আর জোর নেই। তৃণমূলের লোকেরা ভাবে ওটা বাঁশি। যেদিন পুলিশ বোঝাতে পারবে যে ওঠা লাঠি, সেদিন পুলিশের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাবে না।”
উল্লেখ্য ঘটনা নিয়ে কটাক্ষের মুখে তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, “আমি এখনও এর সত্যতা খতিয়ে দেখিনি। তবে এমন ঘটলে দলকে জানাব। দল নিশ্চয় ব্যবস্থা নেবে। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই সবাই মানতে বাধ্য থাকবে।” অন্যদিকে প্রাক্তন পুলিশকর্তা সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করে বলেছেন, “পুলিশের গায়ে হাত দেওয়া খুবই অন্যায়। আর এখানে তো পুলিশ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়েছিল। কাউকে মারধর করতে যায়নি। পুলিশের গায়ে কেন হাত তোলা হবে?”
আরও পড়ুনঃ ফের বৃষ্টির দাপট শুরু! দক্ষিণবঙ্গের ১২ জেলায় জারি সতর্কতা, আজকের আবহাওয়ার খবর জানুন
বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। তবে অভিযুক্ত তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতা জয়ন্ত দাস এখনও অধরা। পুলিশের গায়ে বেল্ট চালানোর দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যে ফের চর্চা শুরু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ও শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে।