ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অ্যাকশন! অথচ চিন্তায় ঘুম উড়েছে পাকিস্তানের, কারণ জানলে অবাক হবেন

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান চিন্তার ভাঁজ ফেলছে পাকিস্তানের (Pakistan) কপালেও। মার্কিন অভিযানের পর রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার এই ঘটনাপ্রবাহ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ এশিয়ায় না ঘটলেও তার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব রাজনীতির একাধিক সংবেদনশীল অঞ্চলে। বিশেষ করে পাকিস্তানে এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাদের জন্যও এক অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পাকিস্তানের (Pakistan)

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণ আধুনিক চিনা অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন অভিযানের কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়নি। এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলেছে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীকে। কারণ পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮২ শতাংশই চিন থেকে আমদানি করা। বায়ুসেনা, নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর বহু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র চিনা প্রযুক্তি নির্ভর। ভেনেজুয়েলার ব্যর্থ প্রতিরোধ পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আরও পড়ুন:আর নেই চিন্তা! এবার হাইওয়েতে সর্বত্র মিলবে মোবাইল নেটওয়ার্ক, বড় পদক্ষেপ NHAI-র

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থাও পাকিস্তানের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকার জনসমর্থন হারাচ্ছিল। চরম মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, খাদ্যসংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করে। ফলে মার্কিন অভিযানের পর ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যায়। পাকিস্তানেও বর্তমানে একই ধরনের অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে, যা সরকার ও সেনাবাহিনীর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সামাজিক চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্বীকার করেন যে দেশে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত, যা থেকে বছরে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়। পাশাপাশি ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১ কোটি ২৫ লক্ষের বেশি শিশু, শিশু শ্রমে নিযুক্ত। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দুর্বল অর্থনীতি ও জনসমর্থনের অভাবে কোনও রাষ্ট্র বহিরাগত চাপের মুখে কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়তে পারে—ভেনেজুয়েলার ঘটনা তারই উদাহরণ।

The US operation in Venezuela is raising concerns in Pakistan.

আরও পড়ুন:বড় পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের! ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে হাঁটবে ‘ওরাও’

আরও একটি বড় উদ্বেগের কারণ পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান পাকিস্তানের প্রতিবেশী এবং বর্তমানে আমেরিকার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ইরানে যদি আমেরিকা বা ইসরায়েলের সামরিক অভিযান হয়, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পাকিস্তানের উপর পড়বে। শরণার্থী স্রোত, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়বে। এই সমস্ত কারণ মিলিয়েই ভেনেজুয়েলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা পাকিস্তানে শুধু দূরবর্তী একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।