বাংলাহান্ট ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) সরকার ‘এক পরিবার, এক পরিচয়’ নামক অভিনব প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের দোরগোড়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এই উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি আইডি’ নামে পরিচিত, যা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিতদের সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রের মোট ৯৮টি প্রকল্প এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে, যার সুবিধা পাচ্ছেন রাজ্যের ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ।
জনকল্যাণে নয়া নজির যোগীর উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh):
ফ্যামিলি আইডি একটি ১২ সংখ্যার অনন্য ডিজিটাল পরিচয়, যেখানে একটি পরিবারের সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এই ব্যবস্থার ফলে সরকারি পরিষেবা বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জালিয়াতি ও একাধিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে বলে প্রশাসন দাবি করছে। ইতিমধ্যেই ফ্যামিলি আইডি পোর্টালে ৪৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। গ্রামীণ এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মকর্তা এবং শহরে লেখপালরা নাগরিকদের এই নথি তৈরিতে সহায়তা করছেন, যাতে প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কেউ বাদ না পড়েন।
আরও পড়ুন: আরও শক্তিশালী হল দেশের গ্রিন এনার্জি অভিযান! এবার যা করে দেখাল ভারত, জানলে চমকে উঠবেন
এই প্রকল্পের বড় সুবিধা হল নাগরিকদের বারবার বিভিন্ন শংসাপত্র সংগ্রহ করতে সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কমে এসেছে এবং পরিষেবা পাওয়ার গতি বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের। যাদের রেশন কার্ড নেই, তারাও আধার ও মোবাইল নম্বর যুক্ত করে ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারছেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দায়বদ্ধ ও ডিজিটাল শাসনের এই মডেল রাজ্য জুড়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। নাগরিকদের আরও সুবিধার জন্য ফ্যামিলি আইডি এখন ‘ডিজিলকার’ অ্যাপে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ লক্ষ ফ্যামিলি আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ড তৈরিতে সরকারের প্রায় আট টাকা খরচ হলেও নাগরিকদের জন্য এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে উদ্বিগ্ন ভারত! সমস্যার সমাধানে কী বার্তা দিল দিল্লি?
কৃষক, শ্রমিক, মহিলা থেকে প্রবীণ নাগরিক—সকলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে। ‘ফ্যামিলি আইডি’ কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং এটি উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক সংস্কারের একটি মাইলফলক, যা ডিজিটাল ভারতের দর্শনকে মাঠে পর্যায়ে বাস্তবায়নের পথ দেখাচ্ছে।












