বাংলাহান্ট ডেস্ক: খুল্লর পরিবারের সাফল্যের (Success Story) এই গল্প যেন এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। মাত্র ১০,০০০ টাকার মূলধন দিয়ে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, আজ সেই ব্র্যান্ড STIM দাঁড়িয়ে আছে ২৫০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য নিয়ে। ১৯৭০–এর দশকে স্বর্গীয় ভি. ডি. খুল্লর যে ব্যবসার বীজ বপন করেছিলেন, তৃতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা বীরেন খুল্লর আজ সেই ব্যবসাকে আজ নিয়ে গিয়েছেন এক নতুন উচ্চতায়। টুথব্রাশ, ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ, ফ্লস, মাউথওয়াশ, ডেন্টাল গার্ড, স্নোর গার্ড—ওরাল কেয়ার প্রোডাক্টের এই বিস্তৃত পরিসর আজ STIM–কে দেশে-বিদেশে নিজের আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি গ্লোবাল ডেন্ট এইডস প্রাইভেট লিমিটেড নামে পরিচিত এবং বিশ্ববাজারেও সমানভাবে সফল।
খুল্লর পরিবারের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):
বীরেন খুল্লরের নেতৃত্বে কোম্পানির কর্মক্ষমতায় আসে আমূল পরিবর্তন। দিল্লিতে বড় হওয়া বীরেন DPS–এ পড়াশোনা শেষ করে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং-এ BBA করার পর তিনি সরাসরি পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। ২০১৫ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সেলস প্রক্রিয়া—সব ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ এবং দক্ষতার উন্নতি এনে বীরেন মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ২০২৪ নাগাদ টার্নওভার বাড়িয়ে নিয়ে যান ২৫০ কোটি টাকায়। তার পরিচালনায় শুধু ব্যবসাই প্রসার পায়নি, কর্মীসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে(Success Story)।
আরও পড়ুন: ২০২৭-এর বিশ্বকাপে আদৌ খেলবেন রোহিত-বিরাট? গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি BCCI-এর
বর্তমানে নয়ডায় STIM–এর চারটি আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্রাশ তৈরি হয়। কোম্পানির পণ্যের তালিকায় রয়েছে প্রায় ৬০ প্রকারের ওরাল কেয়ার প্রোডাক্ট, যা শিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের জন্য তৈরি। ১৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্রাশ, আবার ব্রেস পরা কিশোর-যুবকদের জন্য অরথোডন্টিক রেঞ্জ। প্রবীণদের প্রয়োজন মাথায় রেখে রয়েছে ডেন্টার বা কৃত্রিম দাঁতের বিকল্পও। এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্মের প্রয়োজন মেটাতে STIM নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছে (Success Story)।
এই সাফল্যের পিছনে দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা বিনীত খুল্লরের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮০–র দশকের শেষে তিনি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে শুরু করেন টুথব্রাশ ও ইন্টারডেন্টাল ব্রাশের কনট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এক্সপোর্ট ডিভিশন, যা ব্যবসাকে আন্তর্জাতিকমুখী করে তোলে। ১৯৯৩ সালে নয়ডায় মাত্র ২০ কর্মী নিয়ে প্রথম প্ল্যান্ট স্থাপনের পর ব্যবসার প্রসার ঘটে দ্রুত। আজ STIM–এর মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে রফতানি থেকে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো বাজারে তাদের পণ্যের চাহিদা যথেষ্টই বেশি (Success Story)।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! এই বিশেষ কারণে সমস্যার সম্মুখীন ২০০-র বেশি বিমান, দুর্ভোগে পড়তে পারেন যাত্রীরা
দেশীয় বাজারেও STIM সমান জনপ্রিয়। তাদের মোট বিক্রির ৩০ শতাংশ আসে ভারতীয় বাজার থেকে, যার ৮০ শতাংশই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মাধ্যমে। বাকি ২০ শতাংশ বিক্রি হয় কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে। দামেও তারা সব শ্রেণির মানুষের নাগালের মধ্যে। মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যায় সাধারণ STIM ব্রাশ, অথচ সবচেয়ে দামি পণ্য ৩৫০ টাকার শিশুদের ডেন্টাল কিট, যেখানে ব্রাশ, টুথপেস্ট, ফ্লস, টুথব্রাশ কভার, দুই মিনিটের টাইমার ও একটি উপহার যুক্ত থাকে। ছোট থেকে বড়—সবাইকে মাথায় রেখে এমন বৈচিত্র্যময় পণ্যের মাধ্যমেই STIM ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ওরাল কেয়ার বাজারে একটি বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠেছে (Success Story)।












