বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ CEO দপ্তরে শুক্রবার আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠক (WB All Party Meet) ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এদিনের বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল বুথ বিন্যাস ও হাইরাইজ বুথ তৈরির প্রস্তাব। কিন্তু এদিনের বৈঠকে হাজির তৃণমূল, বিজেপি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস, সব দলের প্রতিনিধিরাই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হন।
সর্বদলীয় বৈঠকে (WB All Party Meet) বুথ বিন্যাস নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ
তৃণমূলের তরফে অরূপ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্টে জালিয়াতি হয়েছে। অনেক বুথে ৫০০-৬০০ ভোটার থাকলেও নতুন বুথ তৈরি হয়নি। আবার ৪০ শতাংশের বেশি অস্থায়ী কর্মীদের BLO করা হয়েছে। এতে ভোট লুটের সম্ভাবনা বাড়ছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে SIR (Special Intensive Revision) কার্যকর হবে না। তাঁর দাবি, “কোনও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। বুথ তুলে নিয়ে অন্যত্র সরানো চলবে না।”
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
বৈঠকে (WB All Party Meet) বিজেপির প্রতিনিধি শিশির বাজোরিয়া কটাক্ষ করে বলেন, “একটা দল SIR-এর নাম উঠতেই চিৎকার করছে। অথচ একাধিকবার SIR হয়েছে। এবারই কেন এত আপত্তি?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বুথ বিন্যাসে জালিয়াতি হয়েছে, জেলা প্রশাসনের দেওয়া রিপোর্ট মিথ্যা। “২৪ জন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের রিপোর্টে একটাও আপত্তি ওঠেনি, এটা কি সম্ভব?”, প্রশ্ন বিজেপি নেতার।
শমীক লাহিড়ী বৈঠকে (WB All Party Meet) বলেন, “৮০ হাজারের বেশি বুথে সবাই ঐক্যবদ্ধ। অথচ জেলা প্রশাসন আসল রিপোর্ট গোপন করেছে। নিরপেক্ষ রেফারি ছাড়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা থাকবে না।” এমনকি তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর নামও রয়েছে।
বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অভিযোগ
সিপিএম নেতাদের দাবি, “ভুয়া ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। অনেক BLO অস্থায়ী কর্মী, যাদের নাম পুলিশ সংগ্রহ করেছে। এতে নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়বে।” তাঁদের মতে, জেলা প্রশাসন মিথ্যা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সিপিএম জানায়, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় এদিনের বৈঠকে (WB All Party Meet) বলেন, “আমরা নো পলিটিক্যাল SIR চাই। বিজেপি নিজে গুণ্ডামি করে, আবার SIR-এর নামে নাটক করছে। বিধান রায় ও রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালিমা লেপন করেছে ওরা।” তাঁর অভিযোগ, আশুতোষ কলেজের ভোটকেন্দ্রে ভুয়া ভোটারদের নাম রয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হব। কমিশন যদি নিরপেক্ষ না হয়, আমরা প্রতিবাদে নামব।”
আরও পড়ুনঃ বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চমকপ্রদ সমীক্ষা, কী বলছে সাধারণ মানুষ?
CEO দপ্তর বৈঠকে (WB All Party Meet) জানিয়েছে, বুথ বিন্যাসের বিষয়ে সব দলের মতামত নেওয়া হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযোগ বা বিকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। কমিশনের দাবি, “বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট আমরা সংগ্রহ করেছি। সেই ভিত্তিতেই আলোচনা চলছে।” তবে শুক্রবারের বৈঠকে SIR নিয়ে তৃণমূল, বিজেপি ও বিরোধী দলগুলির মতবিরোধ বৈঠকের অন্দরেই উত্তেজনা তৈরি করেছিল।