বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে নতুন ডিজিপি (WB DGP) নিয়োগ ঘিরে তৈরি হল বড় জটিলতা। বর্তমান ডিজিপি রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই নতুন ডিজিপি নিয়োগের জন্য যে প্রস্তাব রাজ্য সরকার পাঠিয়েছিল, তা ফেরত পাঠাল ইউপিএসসি। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে কমিশন।
কেন তৈরি হল ডিজিপি (WB DGP) নিয়োগে জট?
রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক বা ডিজিপি (Head of Police Force) নিয়োগের জন্য এমপ্যানেলমেন্ট কমিটি মিটিং (ECM) আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই প্রস্তাবই ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) ফেরত পাঠিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
কবে শেষ হচ্ছে রাজীব কুমারের মেয়াদ?
বর্তমান ডিজিপি (WB DGP) রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। তার আগেই নতুন ডিজিপি নিয়োগের জন্য নামের তালিকা ইউপিএসসি-র কাছে পাঠানো হয়েছিল রাজ্যের তরফে। কিন্তু সেই তালিকাই ফেরত এসেছে। ইউপিএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত বছরের ১৬ ও ২৩ জুলাই কমিশনে চিঠি পাঠিয়ে ডিজিপি পদের জন্য প্যানেল তৈরির প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, রাজ্যে ডিজিপি পদের শূন্যতা তৈরি হয়েছে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সেই সময় থেকেই রাজীব কুমার অ্যাক্টিং বা ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু ইউপিএসসি জানায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই প্রস্তাব অনেক আগেই পাঠানো উচিত ছিল।
কী বলছে সুপ্রিম কোর্ট?
UPSC মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘প্রকাশ সিং মামলা’-য় ২০০৬ সালের রায় সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালের ৩ জুলাই স্পষ্ট নির্দেশ দেয় ডিজিপি (WB DGP) পদের শূন্যতা তৈরি হওয়ার কমপক্ষে তিন মাস আগে রাজ্য সরকারকে UPSC-র কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি মনোজ মালব্য ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর দু’বছরের মেয়াদ শেষে অবসর নেন। নিয়ম অনুযায়ী, তার আগেই অর্থাৎ ২০২৩ সালের মধ্যেই প্রস্তাব পাঠানো উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরেরও বেশি দেরিতে।
সূত্রের খবর, গত বছরের ৩০ অক্টোবর এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক হলেও, দেরি হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। এরপর ইউপিএসসি বিষয়টি নিয়ে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল (AGI)-এর মতামত চায়। অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট জানান, এই বিলম্ব অত্যন্ত গুরুতর এবং এত দীর্ঘ বিলম্ব ক্ষমা করার কোনও বিধান UPSC-র নেই। তিনি আরও বলেন, এমন দেরিতে যোগ্য ও বৈধ প্রার্থীরা এমপ্যানেলমেন্টের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের উচিত ছিল আগেই সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে নির্দেশনা চাওয়া।

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত, রাজ্যের ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর জন্য জারি নির্দেশ
অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতের ভিত্তিতেই UPSC পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, ডিজিপি নিয়োগ (WB DGP) সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে উপযুক্ত নির্দেশ আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে UPSC-র ডিরেক্টর (AIS) নন্দ কিশোর কুমার গত ৩১ ডিসেম্বর একটি সরকারি চিঠি জারি করেন। ওই চিঠির অনুলিপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও পাঠানো হয়েছে।












