ডিআইদের জন্য গাড়িভাড়া থেকে মোবাইল, স্কুল পরিদর্শনে ৭১ লক্ষ টাকা ঢালল সরকার

Published on:

Published on:

West Bengal Government allocates 71 lakh for school inspectors

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি শুধু শ্রেণিকক্ষে পঠনপাঠন চালু রাখার উপর নির্ভর করে না। স্কুলে শিক্ষক উপস্থিতি, পড়ুয়াদের নিয়মিত হাজিরা, পরিকাঠামো এবং সরকারি নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য পরিদর্শক পাঠায় সরকার (West Bengal Government)। কিন্তু এতদিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের অনেককেই স্কুলে যাওয়ার জন্য নিজেদের উদ্যোগের উপর নির্ভর করতে হত। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে স্কুল পরিদর্শনের কাজে যাতে অর্থের অভাব বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় মোবাইল কেনার খরচ বাবদ সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে।

স্কুল পরিদর্শকদের জন্য অনুদান সরকারের (West Bengal Government)

মাধ্যমিক বিভাগের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের গাড়িতে যাতায়াতের জন্য মোট ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মঞ্জুর হয়েছে। পাশাপাশি, প্রত্যেক ডিআইয়ের জন্য স্মার্টফোন কেনার উদ্দেশ্যে ১০ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে জেলাগুলিকে। এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। জানা যাচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনাতেই পরিদর্শকদের আর্থিক সমস্যার প্রসঙ্গ উঠেছিল। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই এবার অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

West Bengal Government allocates 71 lakh for school inspectors

এতদিন পরিদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি অর্থ নিয়মিত হাতে আসত না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ দেবনাথ। তাঁর কথায়, “এর আগে সেভাবে পরিদর্শনের জন্য সরকারি অর্থ পেতেন না ডিআইরা। একবার সমগ্র শিক্ষা অভিযানের কিছু টাকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। তাও ছিল অনিয়মিত। অনেক তদবির করে বছরে পাঁচ-ছমাসের টাকা পেত কিছু জেলা। আবার অনেক জেলা তাও পেত না। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”

আরও পড়ুন : চন্দন তিলক পরায় ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ! স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা ছাত্রের বাবার

জেলাভিত্তিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে গাড়িভাড়ার অঙ্কও এক রাখা হয়নি। মাধ্যমিক স্তরে কোনও জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে
৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। কারণ, সেখানে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সার্কেল অফিসকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের জন্য সব মিলিয়ে বরাদ্দ ৫০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। দুই স্তর মিলিয়ে সরকারি অনুদানের মোট অঙ্ক ৭১ লক্ষ টাকা।

পরিদর্শনের দায়িত্ব শুধু ডিআইদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না নতুন সরকার। ডেপুটি ডিরেক্টর এবং জয়েন্ট ডিরেক্টর পদে থাকা আধিকারিকদেরও অন্তত একটি স্কুল ঘুরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রত্যেক ডিআইকে মাসে কমপক্ষে দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে। এক আধিকারিকের বক্তব্য, “এর আগে কিছুটা নিজেদের উদ্যোগে, কিছুটা সরকারি অর্থ ম্যানেজ করে পরিদর্শনে যেতে হত। এখন সেই সমস্যা থাকল না।” সরকারের নতুন বরাদ্দে আধিকারিকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।