বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের (Krishak Bandhu Scheme) পুরনো উপভোক্তাদের তথ্য ফের যাচাই করছে রাজ্য কৃষি দফতর। যোগ্য কৃষকরাই যাতে প্রকল্পের টাকা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই কাজ শুরু হয়েছে। যাঁরা এখনও নির্দিষ্ট ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের ফের ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
Krishak Bandhu Scheme : ১০ দিনের মধ্যে ফর্ম জমা দিতে হবে
কৃষি দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। ফর্ম সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি আধিকারিকের অফিসে জমা দিতে হবে। এরপর তথ্য ও নথি যাচাই করে যোগ্য কৃষকদের প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আগস্ট মাসের পরেও ফর্ম জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে। তাই এখনও যাঁরা ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁরা এই সুযোগ নিতে পারবেন।
কী কী নথি লাগবে?
ফর্মের সঙ্গে দিতে হবে –
1. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
2. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত আধারের তথ্য।
3. নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
4. প্রয়োজন হলে স্বামী বা স্ত্রীর আধার ও মোবাইল নম্বরের তথ্য।
5. জমির পরিমাণ এবং জমি সংক্রান্ত নথি বা পরচার কপি।
6. বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি।
ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার নিয়ম কৃষি দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছে।
SMS-এর মাধ্যমেও জানানো হচ্ছে
কৃষক বন্ধু ডেটাবেসে যাঁদের মোবাইল নম্বর রয়েছে, তাঁদের SMS করে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। ওই নম্বর ব্যবহার করেও ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দেওয়া যাবে। ব্লক ও স্থানীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার করা হয়েছে।
কেন ফের যাচাই হচ্ছে?
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের (Krishak Bandhu Scheme) পুরনো উপভোক্তাদের তথ্য ফের যাচাই করে যোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কৃষক বন্ধু এবং PM-KISAN-এর তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই প্রকল্পের সাধারণ উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি, যোগ্য অথচ এখনও PM-KISAN-এর সুবিধা পাননি এমন কৃষকদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে। কৃষক বন্ধু পোর্টালে PM-KISAN-এর স্ট্যাটাসও দেখা হচ্ছে।
পূর্বতন সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অযোগ্য উপভোক্তারাও সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রকৃত কৃষকদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে এই ফের যাচাই করা হচ্ছে বলে কৃষি দফতর জানিয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে। তবে এখনও ফর্ম জমা না দেওয়া যোগ্য কৃষকরাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
কৃষক বন্ধুতে কত টাকা পাওয়া যায়?
এক একর বা তার বেশি জমি থাকলে বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক বন্ধু প্রকল্পে (Krishak Bandhu Scheme) পাওয়া যায়। সাধারণত দু’টি কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়। এক একরের কম জমি থাকলেও সুবিধা পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে জমির পরিমাণ অনুযায়ী আনুপাতিক হারে টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ, কৃষকের নামে থাকা জমির পরিমাণ যাচাই করেই কত টাকা দেওয়া হবে তা ঠিক করা হয়।

আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখেই বড় ধাক্কা! ১ অক্টোবর থেকে বাড়ছে AC-TV-ফ্রিজের দাম, কতটা বাড়বে জেনে নিন
মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ২ লক্ষ টাকা
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে (Krishak Bandhu Scheme) আরেকটি সুবিধা রয়েছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি নথিভুক্ত কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।













