বকেয়া DA মেটাতে এইচআরএমএস-এ পে এন্ট্রি বাধ্যতামূলক, নয়া নির্দেশিকা জারি করল অর্থ দপ্তর

Published on:

Published on:

dearness allowance(329)
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পুজোর আগেই বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে জট খুলতে উদ্যোগ রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal)। পশ্চিমবঙ্গ অর্থ দপ্তর, নবান্ন থেকে ২৪.০৯.২০২৬ তারিখের স্মারক নং ৩৫৭৬-F(eGov) জারি করে বলা হয়েছে, যাঁদের বেতন ০১.০৪.২০০৮ থেকে ৩১.১২.২০১৯ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এইচআরএমএস HRMS মডিউলে ওঠেনি, তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা হিসাব ও বিতরণ কীভাবে করা হবে।

১১ বছরের বকেয়া DA মেটাতে বড় পদক্ষেপ | Dearness Allowance

মেমো অনুযায়ী, ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ মেটাতে HRMS-এ পে এন্ট্রি বাধ্যতামূলক। যাঁরা ROPA 2009 অনুযায়ী বেতন পাওয়ার যোগ্য, ০১/০৪/২০০৮ থেকে ৩১.১২.২০১৯ সময়ের মধ্যে WBIFMS-এর HRMS মডিউলের মাধ্যমে বেতন ওঠেনি, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। সুবিধা পাবেন বর্তমান কর্মী, প্রাক্তন ডেপুটেশনে থাকা কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তরাও।

অর্থ দফতর তরফে বিস্তারিত মেমোরেন্ডাম জারি করে বকেয়া ডিএ-র টাকা মেটানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীর বেতন ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এইচআরএমএস-এর মাধ্যমে হয়নি, সেই সকল কর্মীদের জন্য বিশেষ ব‌্যবস্থা।

এইচআরএমএস পোর্টালে একটি নতুন মেনু ‘পে ডিটেইলস এন্ট্রি ফর এরিয়ার ডিএ’ যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‘ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার’ বা ডিডিও-কে এই মেনু ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মীদের মূল বেতন বা বেসিক পে কত ছিল, তা ডিডিও-দের পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, “সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য সরকারি নথির ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বেতনের তথ্য যাচাই করতে হবে”। একইসাথে ওই দীর্ঘ সময়ে কারও পদোন্নতি এবং ইনক্রিমেন্ট হলে সেই সংক্রান্ত তথ্যও পোর্টালে দিতে হবে৷ নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে বেতনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবর্তন সিস্টেমে বাধ্যতামূলক আপডেট করতে হবে।

উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি এন্ট্রির সঙ্গে Date of Effect উল্লেখ বাধ্যতামূলক। সার্ভিস বুক বা প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতেই তথ্য দিতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট বা পে ফিক্সেশনের কারণে বেসিক পে বদলালে সেই তারিখ ধরে আলাদা করে এন্ট্রি করতে হবে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বেসিক পে (ইনক্রিমেন্ট ও গ্রেড পে ধরে) বসাতে হবে।

ডিডিও-কে সার্ভিস বুক স্ক্যান কপি ডাউনলোড করে মিলিয়ে দেখতে হবে। সার্ভিস বুক না থাকলে “Authentic Pay Records” লিঙ্কে প্রামাণ্য নথি আপলোড করতে হবে। আগে যে মহার্ঘ ভাতা ওঠানো হয়েছিল, তার সঙ্গে Pay Bill, Acquittance Roll মিলিয়ে কোনও গরমিল থাকলে HRMS-এ সংশোধন করে নিতে হবে।

dearness allowance(294)

সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আপলোড ও যাচাই করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সিস্টেম নিজেই বকেয়া ডিএ-র হিসাব করে দেবে৷ এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া ডিএ-র স্টেটমেন্ট তৈরি হয়ে যাবে। সরকারি নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি কর্মীর জন্য দু’টি আলাদা বিল তৈরি হবে৷ প্রথমটি ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য।

আরও পড়ুন: SIR নিয়ে মতবিরোধের অভিযোগেই তুঙ্গে বিতর্ক! চিঠি, ফর্ম ৬, ECINet নিয়ে মুখ খুলল কমিশন

দ্বিতীয়টি ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়কালের। আরও বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কোনও কর্মীর যদি এইচআরএমএস আইডি না থাকে, তবে ডিডিও পোর্টাল থেকে নতুন আইডি তৈরি করে বেতনের তথ্য আপলোড করে বকেয়া ডিএ-র বিল জমা দেবেন। মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে আইনি উত্তরাধিকারীদের বকেয়া টাকা দিতে সিস্টেমে একাধিক নমিনির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার বিকল্পও দেওয়া হয়েছে।