ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনা ঘিরে চাপানউতোর, সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত হোয়াইট হাউসের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আগ্রাসী বৈদেশিক নীতির নতুন লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের পথও খোলা রাখা হয়েছে। এই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, প্রেসিডেন্ট কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

ভেনেজুয়েলার পর এবার গ্রিনল্যান্ডের ওপর অভিযান চালাবেন ট্রাম্প (Donald Trump)?

এই হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান জানিয়েছে ডেনমার্ক সরকার। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে গ্রিনল্যান্ডের ‘অভিভাবক’ দেশ হিসেবে কোপেনহাগেন জোর দিয়ে বলেছে, দ্বীপটি বিক্রয়ের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন মার্কিন প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, “ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন” এবং “যে জনগণ স্পষ্ট জানিয়েছে তারা বিক্রি হবে না, তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করাও বন্ধ হোক।” ব্রিটেন ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ ডেনমার্কের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে লখনউয়ের ছাপ! জিসিসি নীতিতে গ্লোবাল সার্ভিস হাব হতে চলেছে যোগীর উত্তরপ্রদেশ

গ্রিনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও এর প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতির দায়িত্ব ডেনমার্কের হাতে। উল্লেখ্য, ডেনমার্ক ন্যাটো জোটের সক্রিয় সদস্য এবং আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর দেওয়ার যুক্তি হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক শক্তি হিসেবে মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের দায়িত্ব, আর সেজন্য গ্রিনল্যান্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

ট্রাম্পের এই অভিপ্রায় ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরেই গুরুতর উত্তেজনা ও বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্যই ডেনমার্ক ন্যাটোতে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু এখন সেই জোটের নেতৃত্বদানকারী দেশই যদি মিত্র রাষ্ট্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

Will Donald Trump now launch an operation against Greenland?

আরও পড়ুন: ‘৩০ বার ফুলশয্যা, ৪০ বার হানিমুন…’, হঠাৎ এ কী বলে বসলেন কাঞ্চন!

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের এই অবস্থান তার দ্বিতীয় মেয়াদে একের পর এক আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি গ্রহণের ধারাবাহিকতায় দেখা যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে জোটগত জটিলতা ও উত্তেজনার সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যেন আরও অবনতি না হয়, সেদিকে নজর রাখছে বিশ্ব সমাজ।