বাংলাহান্ট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির, বিশেষত ভারতের (India) জন্য নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সাথে বাণিজ্য করা কোনও দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের সময় ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এটি কার্যকর হলে ইতিমধ্যে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যের জন্য ৫০ শতাংশ শুল্ক বহনকারী ভারতের উপর মোট শুল্কের বোঝা ৭৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখলেই ভারতের (India) ওপরও পড়বে প্রভাব:
বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক ভারতের জন্য ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশ্বব্যাপী রপ্তানি হওয়া চালের প্রায় ১৯.৪ শতাংশই ভারত থেকে যায়, এবং বাসমতি চালের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা হিসেবে তেহরানের ভূমিকা অগ্রগণ্য। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারতীয় চাল আমদানিতে ইরান আরও আগ্রহ দেখিয়েছে। বাসমতি ছাড়াও ভারত থেকে চা, চিনি, ফল, ওষুধ ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ইরানে রপ্তানি হয়। অন্যদিকে ইরান থেকে ভারত আমদানি করে আপেল, পেস্তা, খেজুর ও বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য।
আরও পড়ুন: শুধু I-PAC নয়, আরও তিন ঘটনা, মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক তালিকা ED-র
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬৮ কোটি ডলার, যেখানে ভারতের রপ্তানি ১২৪ কোটি ডলার। যদিও ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বাণিজ্য ২৩৩ কোটি ডলারে ছিল, অর্থাৎ পরবর্তী দুই বছরে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের কৌশলগত স্বার্থেও ইরানের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এই নতুন শুল্ক নির্দেশিকা দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন এবং এতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন। এই ঘোষণা নয়াদিল্লির জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়েছে, কারণ এটি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: TET নেই এমন শিক্ষকের তালিকাই নেই! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় সমস্যায় রাজ্যের উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষা
এই সংকটে ভারতের সামনে কঠিন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। একদিকে যেমন ইরানের সাথে ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি রোধের চ্যালেঞ্জ। ভারত সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, এই দ্বিমুখী চাপ সামলাতে তারা কীভাবে তাদের বাণিজ্য ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করে।












