বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শংকর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘দ্বিচারিতা’র এক কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কিছু দেশ বিশ্বকে বিনামূল্যে নৈতিক উপদেশ দিতে ভালোবাসে, কিন্তু নিজেদের কর্মকাণ্ডে কখনো আয়না দেখে না। বর্তমানে লুক্সেমবার্গ সফররত জয়শংকর এক আলোচনায় ভেনেজুয়েলা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, আজকের বিশ্বে বেশিরভাগ দেশই নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয় এবং যেখানে সুবিধা, সেখানেই কাজ করে, কিন্তু কিছু দেশ আছে যারা অন্যের ব্যাপারে নীতির তকমা লাগাতে এগিয়ে আসে।
নাম না করে আমেরিকাকে খোঁচা ভারতের (India)
এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উদাহরণ টেনে আনেন, যখন পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতের অভিযানের সময় কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সংযমের পরামর্শ দিয়েছিল। বিদেশমন্ত্রীর প্রশ্ন, যারা তখন নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, তারা কি নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকেও একই মানদণ্ডে তাকায়? তিনি বলেছেন, অন্যের জন্য যে নীতির আবেদন তারা করে, কেন নিজেদের সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে সেই নীতির প্রয়োগ নিজেদের ক্ষেত্রে দেখাতে পারে না?
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনা ঘিরে চাপানউতোর, সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত হোয়াইট হাউসের
জয়শংকর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য হল – অনেকেই যা বলেন, তা নিজেরা পালন করেন না। ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভারতকে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হয়। চ্যালেঞ্জ হল নীতি ও বাস্তবতার ব্যবধান বোঝা এবং সেইসঙ্গে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, বিষয়টিতে ভারতের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। ভারত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “দিনের শেষে আমাদের প্রধান উদ্বেগ সাধারণ মানুষের মঙ্গল।”

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে লখনউয়ের ছাপ! জিসিসি নীতিতে গ্লোবাল সার্ভিস হাব হতে চলেছে যোগীর উত্তরপ্রদেশ
জয়শংকরের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে একপেশে নৈতিকতার প্রচেষ্টার একটি স্পষ্ট জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংকটে তার স্বাধীন, জাতীয় স্বার্থভিত্তিক অবস্থানেরও একটি সুস্পষ্ট প্রকাশ।












