বাংলাহান্ট ডেস্ক: লোকসভায় পর্যাপ্ত সমর্থন না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাস হল না মহিলা সংরক্ষণ (Women Reservation Bill) ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। দু’দিনের টানা আলোচনা শেষে শুক্রবার বিলটি ভোটাভুটিতে তোলা হলে পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তবে বিলটি পাস করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন, অর্থাৎ অন্তত ৩৫২টি ভোট। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিলটি লোকসভায় গৃহীত হয়নি।
লোকসভায় পাশ হল না মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women Reservation Bill)
এই বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’, যার মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়। পাশাপাশি লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিলও ছিল আলোচনার তালিকায়। তবে শুরু থেকেই এই বিলগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে থাকে।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে কেন্দ্র সরকার আসলে দেশের ভোট মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবকে ঘিরে আপত্তি তোলে বিরোধীরা। তাদের মতে, নতুন জনগণনার আগে পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করলে তা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। এই ইস্যুতেই বিরোধী শিবির একজোট হয়ে বিলটির বিরোধিতা করে।
বিলটি পাস না হওয়ার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। শেষ পর্যায়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, তারা মহিলাদের অধিকার রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং সরকারকে বিশ্বাস রেখে বিলটি পাশ করতে দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, এই বিল মহিলাদের উন্নয়নের লক্ষ্যে আনা হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হওয়ায় নারী শক্তির বিরোধিতা স্পষ্ট হয়েছে। পালটা প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে।

আরও পড়ুন: এবার আর ড্রাইভার নয়, AI চালাবে ট্যাক্সি! ভারতের কোন শহরে চালু হতে চলেছে প্রথম?
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালেই সংসদে এই ‘নারী শক্তি বন্ধন আইন’ পাস হয়েছিল, যেখানে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়। তবে তখন তা জনগণনা ও পরবর্তী পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এবার কেন্দ্র সরকার ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে চাইলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বিলটি (Women Reservation Bill) আপাতত স্থগিত রয়ে গেল, এবং ভবিষ্যতে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের ওপরই এর ভাগ্য নির্ভর করবে।












