বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের গৃহযুদ্ধে অশান্ত পাকিস্তান (Pakistan)। খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশের সোয়াত জেলায় রবিবার একটি শান্তি মিছিল চলাকালীন ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে (Suicide Bombing) অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, ফলে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) শান্তি মিছিলে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত ১৪:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোয়াত জেলার কাবাল শহরে স্থানীয় আদিবাসী পরিষদ ‘সোয়াত আমান জিরগা’-র উদ্যোগে এই শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। হাতে প্ল্যাকার্ড ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে অংশগ্রহণকারীরা এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময়েই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, হামলাকারীর মূল লক্ষ্য ছিল পুলিশকে নিশানা করা। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের বাধার মুখে পরিকল্পনা বদলে সে নিজের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটায়, যার জেরে বহু সাধারণ মানুষও হতাহত হন (Pakistan)।
আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহেই বড় চমক! বাংলাদেশ ছাড়ার পর প্রথমবার ভারতে জনসমক্ষে আসছেন শেখ হাসিনা
সোয়াতের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ফিদা হুসেন সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি জ্যাকেট পরে একটি পুলিশ স্টেশনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মূল ফটকেই পুলিশ তাকে আটকে দেয়। এরপরই সে নিজের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক সক্রিয় করে দেয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং গোটা এলাকা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
এই হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে এই হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন স্বীকার না করায় তদন্তকারীরা একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি দেখে এটি একটি সুপরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা বলেই মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় ফ্ল্যাটের দাম ফের বাড়ল! বাড়ি কেনার আগে জেনে নিন নতুন হিসাব
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও সীমান্তবর্তী অন্যান্য অঞ্চলে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান সরকার অতীতে এই ধরনের হামলার জন্য আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করেছে। যদিও আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। ফলে এই বিস্ফোরণের পর দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট হবে না। তবে শান্তির দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচি রক্তাক্ত হামলায় পরিণত হওয়ায় পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
















