১৫০০ যাত্রী, ৬০ কিমি গতি! লাইনম্যানের একটি ভুলে পাকিস্তানে মৃত্যু ৩০০-র বেশি মানুষের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শীতের সকাল। গমগম করছে যাত্রী ভর্তি ট্রেন। কেউ তখন ঘুমাচ্ছেন তো কেউ আবার আড়মোড়া ভেঙে সবে জানলা দিয়ে রোদ দেখছেন। ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসা ট্রেনটিতে হঠাৎ ঝাঁকুনি। আর এক লহমায় ঘটে যায় বিরাট দূর্ঘটন। মুহুর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায় ৩০০ যাত্রীর প্রাণ। আহত হয় ৭০০ এরও বেশি যাত্রী। আজ থেকে কয়েক দশক আগে আজকের দিনেই এমনই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার (Train Accident) সাক্ষী হয়েছিল পাকিস্তান (Pakistan)।

   

১৯৯০ সাল, ৪ জানুয়ারি তারিখটি পাকিস্তানের ইতিহাসে অভিশপ্ত দিন হিসেবে রয়ে গেছে। দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের কাছে সাংঘি গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এমনই ছিল যে পাক নাগরিকরা তারপর ট্রেনে চাপার আগে দ্বিতীয়বার ভাবত। ১৬ বগির ট্রেন বাহাদুদ্দিন এক্সপ্রেস যাচ্ছিল করাচির দিকে। ট্রেনটিতে প্রায় ১৫০০ যাত্রী ছিল বলে খবর। একটা সংঘর্ষে এই প্রত্যেকেরই জীবন ওলট পালট হয়ে যায়।

পাক মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, মূলত লাইনম্যানের কারণেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। তারই ভুলে ট্রেনটি সেই লাইনে ঢুকে যায় যেখানে একটি মালগাড়ি আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। মালগাড়ি যতক্ষণে লোকপাইলটের নজরে আসে তখন আর কিছু করার ছিলনা। পাইলট ব্রেক কষে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করলেও ট্রেনটি গিয়ে ধাক্কা মারে মালগাড়িতে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রায় ৩০০ এরও বেশি যাত্রীর। গুরুতরভাবে আহত হয় প্রায় ৭০০ যাত্রী।

আরও পড়ুন : ‘একটি মসজিদও ছাড়ব না, ধ্বংসলীলা চালাব’, রাম মন্দির নিয়ে উত্তেজক পোস্ট, গ্রেফতার ১

বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ট্রেনের বগি কেটে মৃতদেহ সরাতে হয়। সেনাবাহিনীকে নামাতে হয় মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য। প্রাথমিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর মুখে নাশকতার কথা উঠে এলেও পরে জানা যায় লাইনম্যানের ভুলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হলে লাইনম্যান তার ভুল স্বীকার করেন। ঘটনায় ৩ রেল কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা অবধি দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন : রাম মন্দিরের পাশেই ভারত তথা এশিয়ার প্রথম AI শহর! গেলেই চমকে উঠবেন

pakistan train accident

প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো নিজে করাচি থেকে মুলতানে এসে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এই দুর্ঘটনাকে জাতীয় ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে।’ তদন্তে জানা যায় যে দুর্ঘটনার সময় স্টেশন ম্যানেজার এবং দুই লাইনম্যান নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাদের গ্রেফতার অবধি করা হয়। এর আগে ১৯৫৩ সালেও একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল পাক মাটিতে। যাতে প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছিল। দুর্ঘটনায় ৩০০ জন প্রাণ হারান।