বাংলাহান্ট ডেস্ক:- আমেরিকার চোখরাঙানি এড়িয়ে রাশিয়ার থেকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানির পথে হাঁটছে ভারত (India)। মার্কিন চাপ ও হুঁশিয়ারির মাঝেও নয়াদিল্লি (New Delhi) ক্রমশ রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে জোর দিচ্ছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন সেপ্টেম্বর মাস থেকে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি আরও বাড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, আগস্টের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। যা থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন বিরোধিতা আরও তীব্র হলেও নয়াদিল্লি নিজের স্বার্থ রক্ষায় অটল রয়েছে।
ট্রাম্পের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা ভারতের (India)
রাশিয়ার (Russia) ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে তাদের একাধিক তৈল শোধনাগারে। তেল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় রাশিয়ান রপ্তানিকারকরা আরও কম দামে ভারতকে তেল দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী ভারতীয় রিফাইনাররা। ফলে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। মার্কিন প্রশাসন ভারতের এই সিদ্ধান্তকে একাধিকবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে ভারত সরকারের যুক্তি, পশ্চিমা দেশগুলো নিজেরাও নানা ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তাই ভারতকে আলাদা করে চাপ দেওয়া অযৌক্তিক। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও আপাতত আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে সরছে না নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন:- সিটি অফ “ভয়”! মহিলাদের জন্য অসুরক্ষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত কলকাতা, কী জানাচ্ছে রিপোর্ট?
বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, শুল্ক বিরোধ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক স্তরে আলাপ-আলোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার দিকেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিল্প তথ্য অনুসারে, আগস্টের প্রথম ২০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে ভারত। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় এই পরিমাণ স্থিতিশীল, তা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের গড়ের তুলনায় কিছুটা কম। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশই আসছে রাশিয়া থেকে।
তেলের দামে রাশিয়ার বাড়তি ছাড় ভারতীয় বাজারকে আরও আকৃষ্ট করেছে। সেপ্টেম্বরে লোডিংয়ের জন্য রাশিয়ান ইউরাল অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট বেঞ্চমার্কের তুলনায় প্রতি ব্যারেল ২ থেকে ৩ ডলার ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে, যা আগস্টে ছিল মাত্র ১.৫০ ডলার। ২০২২ সালের পর এত বড় ছাড় খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে রিলায়েন্স ও নায়ারা এনার্জি সহ একাধিক ভারতীয় রিফাইনার আমদানির পরিমাণ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই দুটি সংস্থা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন:-প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাজে কতটা সন্তুষ্ট দেশের মানুষ? সমীক্ষায় উঠে এল বড় তথ্য
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলে ভারত রুশ তেল আমদানি চালিয়ে যাবে। কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া জানিয়েছেন, যদি না সরকার কোনও স্পষ্ট নীতি জারি করে বা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে, তবে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার কোনও কারণ ভারতের নেই। ব্রোকারেজ সংস্থা সিএলএসএ সতর্ক করেছে, যদি ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন প্রায় দশ লক্ষ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যাবে এবং দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
তবে আপাতত পরিস্থিতি ভারতের পক্ষে অনুকূল। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অন্তত অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ভারতের শক্তিশালী আমদানি অব্যাহত থাকবে। তবে বছরের শেষের দিকে মার্কিন শুল্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর মূল্যসীমার প্রভাব পড়তে শুরু করতে পারে। তার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে তেল আমদানি চুক্তি আরও জোরদার করার পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি।