সাজার মেয়াদ শেষ! তবুও পাকিস্তানের জেলে বন্দি ১৬৭ জন ভারতীয়, বড় পদক্ষেপ নিল ভারত

Published on:

Published on:

India takes a major step regarding Indian Prisoners in pak jail.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের কারাগারে সাজা শেষ হওয়ার পরও আটকে থাকা ১৬৭ জন ভারতীয় নাগরিকের মুক্তির জন্য কড়া বার্তা দিল ভারত (India) সরকার। বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লি ইসলামাবাদকে জানিয়েছে, মানবিক কারণে এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে যাদের সাজা শেষ হয়ে গেছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এই বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও বহু মৎস্যজীবী, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের কারাগারে রয়েছেন।

সাজা শেষের পরও পাক জেলে বন্দি ১৬৭ জন ভারতীয়, বড় পদক্ষেপ ভারতের (India):

বিদেশ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের কারাগারে ৩৯১ জন পাকিস্তানি সাধারণ নাগরিক ও ৩৩ জন মৎস্যজীবী বন্দি আছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি অনুসারে, তাদের কারাগারে ৫৮ জন ভারতীয় সাধারণ নাগরিক ও ১৯৯ জন মৎস্যজীবী বন্দি রয়েছেন। এই তালিকায় এমন অনেকেই আছেন যাদের সাজা অনেক আগেই শেষ হলেও, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা এখনও মুক্তি পাননি।

আরও পড়ুন: ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার পর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা! বাংলাদেশে ফের ‘টার্গেট’ হিন্দু যুবক

ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাজা শেষ হওয়া বন্দিদের আর আটকে রাখার কোনো যুক্তি নেই এবং তাদের মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কারাগারে থাকা ৩৫ জন ভারতীয় নাগরিককে তাত্ক্ষণিক কনসুলার সহায়তা দিতে ভারতীয় দূতাবাসকে অনুমতি দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য মতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে মোট ২,৬৬১ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ও ৭১ জন সাধারণ বন্দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা ও উদ্যোগের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তবে এখনও যারা সেখানে আটক আছেন, তাদের মুক্তিতেও একই রকম কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

India takes a major step regarding Indian Prisoners in pak jail.

আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুর ভুলতে বসেছে পড়শি দেশ? নতুন বছরেই ভারতে ঢুকে পাক ড্রোন যা করল…

ভারত সরকার পাকিস্তানকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে, তাদের কারাগারে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিক ও সম্ভাব্য ভারতীয় বন্দিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে। নয়া দিল্লির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও মানবিক বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সাজা শেষ হওয়ার পরও বন্দি দশা অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির লঙ্ঘন বলে ভারতের বিবেচনায়।