বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দল নিরঙ্কুশ জয় পেলেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব যে পুরোপুরি ক্ষীণ হয়নি, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটের পরিসংখ্যানে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও তাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক জেলায় বিপুল সংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে এবং গণভোটে ‘না’ ভোটের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংগঠিত রাজনৈতিক উপস্থিতি না থাকলেও দলটির সমর্থকভিত্তি এখনও সক্রিয় রয়েছে।
নির্বাচনের ময়দান থেকে দূরে থেকেও বাংলাদেশে (Bangladesh) দাপট শেখ হাসিনার
বাংলাদেশ ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির মতো এলাকাগুলিতে গণভোটের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য হারে ‘না’ ভোট পড়েছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচার চালিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলিতে ‘নো ভোটের’ প্রাধান্য সরকারপক্ষের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: BNP-র দাপটে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান! বাংলাদেশের নির্বাচনে এই ১০ টি বিষয় অবাক করবে
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে ‘না’ ভোট পড়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার। বান্দরবানে ‘না’ ভোট ৯০,১৫৬ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ৭১,৪১৭। চট্টগ্রামেও একই চিত্র—‘না’ ভোট প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার, আর ‘হ্যাঁ’ ভোট ৮০,৫৮০। এসব পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে যে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলিতে গণভোটের প্রস্তাব নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় বা আপত্তি ছিল প্রবল।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল অবাধ নির্বাচন আয়োজন। ক্ষমতায় এসে সরকার আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে, ফলে দলটি এবারের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। শেখ হাসিনা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচন ছিল একতরফা এবং জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। তাঁর বক্তব্য, আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়ায় অনেক ভোটারই কেন্দ্রে যাননি।

আরও পড়ুন: ময়নায় গেরুয়া শিবিরে ধাক্কা, ক্রিকেটার বিধায়ককে আক্রমণ করে তৃণমূলে পা রাখলেন নেতা
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবার প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লক্ষ। এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে “নৌকা নয়, ভোট নয়” নামে একটি প্রচারাভিযান দেখা যায়। নৌকা ছিল দলের নির্বাচনী প্রতীক। বহু স্থানে সমর্থকেরা ব্যালট পেপারে ওই স্লোগান লিখে ভোটবাক্সে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলের আড়ালে তাঁর প্রভাব অটুট থাকার বার্তাই দিচ্ছে।

















