বাংলা হান্ট ডেস্ক : ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম প্রধান নদী গঙ্গার (Ganga River) ভবিষ্যৎ। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের লাগামছাড়া কার্যকলাপের জেরে দ্রুত কমছে নদীর জলপ্রবাহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর গড়ে ১.৫ থেকে ২ সেন্টিমিটার করে নেমে যাচ্ছে গঙ্গার জলস্তর। নদী-বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, গত প্রায় ১৩০০ বছরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি গঙ্গা।
কমছে গঙ্গার (Ganga River) জল
দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৮৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি এই নদীর উপর নির্ভরশীল। হাজার বছরের সভ্যতা গড়ে উঠেছে গঙ্গাকে কেন্দ্র করে, অথচ আজ সেই নদীই ধীরে ধীরে প্রাণ হারাচ্ছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মৌসুমি বায়ুর ছন্দপতন, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ- এই সবকিছুই গঙ্গার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
প্যালিওক্লাইমেটোলজিস্টরা প্রাচীন জলবায়ুর তথ্য, ঐতিহাসিক নথি এবং হাইড্রোলজিক্যাল মডেল বিশ্লেষণ করে খ্রিস্টীয় ৭০০ সাল পর্যন্ত গঙ্গার জলস্তরের একটি চিত্র পুনর্গঠন করেছেন। সেই গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৯১ থেকে ২০২০—এই সময়কাল গঙ্গা অববাহিকার ইতিহাসে শুষ্কতম তিন দশক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নদীর জলস্তরের এই পরিবর্তন অতীতের একাধিক ভয়াবহ খরার চিত্রও স্পষ্ট করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘৭৬–এর মন্বন্তর’ যার ফলে অত্যাধিক হারে ফসলহানি ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৯১ থেকে ২০২০-র মধ্যে গঙ্গা অববাহিকায় অন্তত চারটি দীর্ঘমেয়াদি খরা দেখা গিয়েছে, যার প্রতিটির স্থায়িত্ব ছিল তিন বছর বা তারও বেশি। অথচ ইতিহাস বলছে, এই ধরনের খরা সাধারণত ৭০ থেকে ২০০ বছরের ব্যবধানে ঘটে। গঙ্গার এই অস্বাভাবিক জলহ্রাসের অন্যতম কারণ মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি। এই প্রসঙ্গে গান্ধীনগরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’–র অধ্যাপক বিমল মিশ্র বলেন, “গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে স্থলভাগ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য এতটাই কমে গিয়েছে যে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কমেছে।”

আরও পড়ুন : গত বছর সাত ! এবার আট তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু খড়গপুর আইআইটির পড়ুয়ার
জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন, জল সরবরাহ এবং পরিবেশের ভারসাম্যের উপর। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাব আগামী প্রজন্মের উপর আরও বেশি করে পড়বে। একসময় বাংলা ও বিহার থেকে বারাণসী ও এলাহাবাদ পর্যন্ত যে নদীপথে নৌ চলাচল ছিল, আজ সেই পথ অচল। গঙ্গার এই সঙ্কট শুধুমাত্র একটি নদীর সমস্যা নয়—এটি বৃহত্তর পরিবেশগত বিপদের পূর্বাভাস। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।













