বাংলাহান্ট ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে অনুষ্ঠিত আইআইটি ২০২৬ গ্লোবাল কনফারেন্সে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫০০-এরও বেশি নেতা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিবিদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন সদগুরু (Sadhguru)। ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর ভাষণে ভারতকে কেবল একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি প্রাচীন ও জীবন্ত সভ্যতা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, ভারতের প্রকৃত শক্তি তার বহুমাত্রিক ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ জ্ঞানের ধারায় নিহিত।
ভারতকে দেশ নয়, সভ্যতা বলে আখ্যা দিলেন সদগুরু (Sadhguru):
সদগুরু বলেন, ভারতের পরিচয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন একটি সভ্যতা, যা হাজার বছরের বৌদ্ধিক, বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এই সভ্যতার বিশেষত্বই তাকে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের থেকে আলাদা করে তোলে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের উন্নয়নে এই ঐতিহ্য এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং তা মানবজাতিকে আরও সচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় মিলবে ‘শাস্তি’? গোপনে এই দেশের বিরুদ্ধে ছক কষছে আমেরিকা
বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সদগুরু সতর্ক করেন যে, আগামী দিনে প্রজন্মগত পরিবর্তন অনেক দ্রুত ঘটবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গেলে মানুষের অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্য ও মানসিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, যন্ত্র হয়তো তথ্য প্রক্রিয়াকরণে মানুষের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষের প্রকৃত শক্তি সেই বুদ্ধিমত্তায়, যা তথ্যের বাইরেও গভীর উপলব্ধি তৈরি করতে পারে।
তাঁর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সদগুরু বলেন, মানবদেহ ও মনই পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ‘প্রযুক্তি’। এই অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন না করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষ পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং সুস্থতার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এটি আর শুধু আধ্যাত্মিক চর্চা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে কার্যকর থাকার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত।

আরও পড়ুন: চলতি বছরের জুনেই হতে চলেছে G7 সামিট! ফের সাক্ষাতের সম্ভাবনা ট্রাম্প-মোদীর
২২ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত লং বিচ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সম্মেলনে আইআইটির ৭৫ বছরের সাফল্য উদযাপন করা হয়। আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এই মঞ্চে সদগুরুর (Sadhguru) বক্তব্য প্রযুক্তি ও মানবিক চেতনার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তোলে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে কেবল প্রযুক্তির দ্বারা নয়, বরং মানুষ সেই প্রযুক্তিকে কতটা সচেতনভাবে ব্যবহার করতে পারে তার উপর।













